, ,

যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রপ্তানিতে মন্দা, চাহিদা কমেছে বিশ্ববাজারে

বিশ্বের প্রধান তুলা রফতানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে তুলার বাজারে বর্তমানে বড় ধরনের

মন্দা লক্ষ্য করা গেছে। দেশটির প্রধান ‘আপল্যান্ড’ জাতের তুলার সাপ্তাহিক নিট

বিক্রি অর্ধেকেরও বেশি কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ

করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮

জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে আপল্যান্ড ও প্রিমিয়াম পিমা—উভয় জাতের তুলার আন্তর্জাতিক

চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে বিক্রির গতি কমলেও বৈশ্বিক বাজারে

মার্কিন তুলার মোট সরবরাহের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ফাইবার টু ফ্যাশন এক

প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

ইউএসডিএর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলমান ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে আপল্যান্ড তুলার নিট

সাপ্তাহিক বিক্রি ৫৩ শতাংশ কমে মাত্র ৮৩ হাজার ৯০০ রানিং বেলে (প্রতি বেলের ওজন ২২৬

কেজি ৮০ গ্রাম) দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদার এই মন্থরগতির মধ্যেও ভিয়েতনাম ৩১ হাজার

৩০০ রানিং বেল তুলা কিনে এককভাবে শীর্ষ আমদানিকারকের স্থান দখল করেছে। দ্বিতীয়

অবস্থানে থাকা ভারত কিনেছে ১৪ হাজার ৩০০ রানিং বেল। বাংলাদেশের স্পিনিং ও টেক্সটাইল

মিলগুলো ১৪ হাজার ২০০ রানিং বেল তুলা বুকিং দিয়ে তৃতীয় শীর্ষ ক্রেতার মর্যাদা ধরে

রেখেছে। এ ছাড়া চীন ৭ হাজার ৬০০ বেল এবং দক্ষিণ কোরিয়া ৪ হাজার ৫০০ বেল তুলা ক্রয়ের

চুক্তি করেছে। তবে নিকারাগুয়া ও কিছু নামহীন গন্তব্য থেকে আগের পুরনো ক্রয়াদেশ

বাতিল হওয়ায় সামগ্রিক বিক্রির হিসাবে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বিক্রি কমলেও এ সপ্তাহে মার্কিন তুলা রফতানি ও সরবরাহের চিত্রটি ছিল তুলনামূলক

ইতিবাচক। মোট আপল্যান্ড তুলা সরবরাহ ২০ শতাংশ বেড়ে ৩ লাখ ২০০ রানিং বেলে পৌঁছেছে।

এর মধ্যে ভিয়েতনাম সর্বোচ্চ ১ লাখ ২ হাজার ৮০০ রানিং বেল তুলা বুঝে পেয়েছে।

পাকিস্তান ও বাংলাদেশ যথাক্রমে ৪৮ হাজার ৬০০ বেল এবং ২৫ হাজার ৯০০ রানিং বেল তুলা

আমদানি করেছে। অন্যদিকে উচ্চমানের পিমা তুলার চাহিদাও ২১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে মাত্র ৪

হাজার ৩০০ রানিং বেলে নেমেছে। পিমা তুলার বাজারেও ২ হাজার রানিং বেল কিনে

শীর্ষস্থানে ছিল ভারত, আর বাংলাদেশ আমদানি করেছে মাত্র ৩০০ বেল। বাজার বিশেষজ্ঞরা

বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলার কেনাবেচা সাময়িকভাবে মন্থর হলেও বাংলাদেশ, ভারত

ও ভিয়েতনামের মতো প্রধান পোশাক উৎপাদনকারী দেশগুলোর নিয়মিত ক্রয়াদেশ বজায় থাকায়

মার্কিন তুলা বাজার বড় কোনো বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে। পোশাক শিল্পের বৈশ্বিক

চাহিদা পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করেই মার্কিন তুলার এই বাজার অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন