, ,

জুলাই অবমাননার অভিযোগে শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় জিডি

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলন নিয়ে অবমাননাকর

মন্তব্য ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি

এবং শান্তা ফারজানা নামের এক নারীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা

হয়েছে। ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে শুক্রবার (৩ জুলাই)

সকালে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়, যা পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত

করেছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি সাইবার সংক্রান্ত হওয়ায় এটি অধিকতর

তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ইউনিটে

পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ

করা হবে।

অভিযোগপত্রে যা বলা হয়েছে:

রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগপত্রে তিনজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে

সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে:

১. শান্তা ফারজানা: তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ বা

আঘাত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যা শহীদদের স্মৃতির

প্রতি চরম অবমাননাকর।

২. মেহের আফরোজ শাওন: অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শাওন বিভিন্ন ভিডিও বার্তায় জুলাই

আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত’ বা ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং রাষ্ট্র ও

আন্দোলন সম্পর্কে নেতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন।

৩. মাহিয়া মাহি: মাহির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন সংগঠনকে কটাক্ষ করেছেন এবং তাদের

কর্মকাণ্ডকে ‘অভিনয়’ বলে তুলনা করে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আনম আয়াস ও তুহিন ফরাজী এবং কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক

মুহাম্মদ শাহ্ আলম বাদশা স্বাক্ষরিত এই আবেদনে বলা হয়েছে, ১ হাজার ৪০০-এর বেশি শহীদ

ও ৩০ হাজারের অধিক আহত মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিপ্লবকে নিয়ে এ ধরনের

কর্মকাণ্ড জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগের বিষয়টি

তারা জেনেছেন। সাইবার ইউনিটের কাছে নথি পৌঁছানোর পর তদন্ত শুরু হবে। তদন্তে সত্যতা

প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের মতো কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে

পারে।

উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে এ ধরনের অবমাননাকর

প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক

সংগঠন। পুলিশের সাইবার বিভাগ এখন ভিডিও ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো

ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন