, ,

বেলিংহামের জোড়া গোলে মেক্সিকোকে হারিয়ে শেষ আটে ইংল্যান্ড

বজ্রপাত আর ভারি বৃষ্টির কারণে ম্যাচ শুরু হতে দেরি হলো এক ঘণ্টা। কিন্তু প্রকৃতির

সেই তাণ্ডব যেন কেবল মাঠের ভেতরে আসন্ন ঝড়েরই পূর্বাভাস ছিল। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক

আজতেকা স্টেডিয়ামে আজ যা হলো, তাকে ফুটবলীয় রোমাঞ্চের চূড়ান্ত বললেও কম বলা হবে।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, দুই মিনিটের ব্যবধানে জুড বেলিংহামের জোড়া গোল, লাল কার্ডের

ধাক্কা আর দুই দলের দুটি পেনাল্টি—সব মিলিয়ে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর

ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত

করেছে ইংল্যান্ড।

ম্যাচের শুরু থেকেই গ্যালারি কাঁপানো মেক্সিকান সমর্থকদের গর্জনে উজ্জীবিত হয়ে

ইংল্যান্ডকে চাপে রাখার চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। তবে ৩৬তম মিনিটে খেলার ধারার

বিপরীতে প্রথম আঘাত হানে থমাস টুখেলের শিষ্যরা। গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের কাছ

থেকে শুরু হওয়া এক বিদ্যুৎগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ডেকলান রাইস বল বাড়ান বুকায়ো

সাকাকে। ডান প্রান্ত থেকে সাকার মাপা ক্রসে দুর্দান্ত এক ডাইভিং হেডে জাল খুঁজে নেন

জুড বেলিংহাম।

আজতেকার গ্যালারি তখনও প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি, তার মধ্যেই মাত্র দুই

মিনিট পর আবারও ইংল্যান্ডের গোল উৎসব। মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে

বাড়ান এলিয়ট অ্যান্ডারসন। কেইনের নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে

নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন বেলিংহাম। ৩৮ মিনিটের মাথায় ২-০ গোলে

এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ অনেকটা নিজেদের পকেটে পুরে নেয় থ্রি লায়ন্সরা।

দুই গোল খেয়ে দমে না গিয়ে পাল্টা লড়াই শুরু করে মেক্সিকো। বিরতির ঠিক তিন মিনিট আগে

৪২তম মিনিটে হুলিয়ান কুইনোনেসের দারুণ এক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-১ এ কমিয়ে আনে

স্বাগতিকরা। বিরতির পর সমতায় ফিরতে মরিয়া মেক্সিকো যখন চাপ বাড়াচ্ছিল, তখনই ম্যাচের

৬০তম মিনিটে আসে বড় ধাক্কা। হেসুস গাইয়ার্দোকে বিপজ্জনক ট্যাকল করায় সরাসরি লাল

কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংলিশ ডিফেন্ডার জারেল কনসাহ।

১০ জনের দলে পরিণত হলেও ভাগ্যের সহায়তায় দ্রুত ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ইংল্যান্ড। বক্সে

অ্যান্থনি গর্ডনকে গোলরক্ষক রাউল রাঞ্জেল ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

স্পটকিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ গোলটি তুলে নেন হ্যারি

কেইন। ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় ৩-১ ব্যবধানে।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত নাটকীয়তা থামেনি। ৮৩তম মিনিটে বক্সের ভেতর

ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে হ্যারি কেইন ফাউল করলে ভিএআরের (VAR) সাহায্যে পেনাল্টির

সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-২ এ নামিয়ে আনেন মেক্সিকান

তারকা রাউল হিমেনেজ। শেষ কয়েক মিনিট ১০ জনের ইংল্যান্ডের ওপর একের পর এক ঢেউয়ের মতো

আক্রমণ চালায় মেক্সিকো। কিন্তু ইংলিশ রক্ষণের অসাধারণ দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই

মাঠ ছাড়ে টুখেলের দল।

শ্বাসরুদ্ধকর এই জয়ের পর ইংল্যান্ডের সামনে এখন কোয়ার্টার ফাইনালের চ্যালেঞ্জ। শেষ

আটে তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে। যারা আগের ম্যাচেই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে

টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়,

আজতেকার আত্মবিশ্বাস নিয়ে টুখেলের ইংল্যান্ড নরওয়ে-বধ করতে পারে কি না।

পোস্টটি শেয়ার করুন