, ,

অশ্রুসিক্ত চোখে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে নেইমারের বিদায়

বিশ্বকাপ জয়ের আজন্ম লালিত স্বপ্ন আবারও চূর্ণ হলো। সেই সঙ্গে যবনিকা পড়ল

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের। নরওয়ের কাছে

২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে

অবসরের প্রকাশ্য ঘোষণা দিলেন নেইমার জুনিয়র। কাকতালীয়ভাবে, ১৬ বছর আগে নিউ জার্সির

মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা, আর সেই একই মাঠেই আজ শেষ হলো এক

বর্ণিল অধ্যায়।

অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায়

ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের গ্লোভো টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার।

তিনি বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই অনেক চেষ্টা করেছি। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের

ইতি ঘটেছে। এখন সব শেষ। এখানেই আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।” সরাসরি অবসরের

কথা না বললেও তাঁর এই মন্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতালিয়ান সাংবাদিক

ফ্যাব্রিজিও রোমানোর দেওয়া ‘ব্রেকিং নিউজ’ নিশ্চিত করছে যে, সেলেসাওদের জার্সিতে আর

দেখা যাবে না এই জাদুকরকে।

ব্যর্থতার বৃত্তে ব্রাজিল

১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স। নরওয়ের কাছে

হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেওয়ায় সেলেসাওদের শিরোপা খরা আরও দীর্ঘ হলো। ১৯৫৮ সালে

প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই হতে যাচ্ছে ব্রাজিলের দীর্ঘতম শিরোপাহীন সময়—২০৩০

বিশ্বকাপ নাগাদ যা ২৮ বছরে দাঁড়াবে। গ্রুপ পর্বে অনিয়মিত থাকলেও বিদায়ী ম্যাচে যোগ

করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমিয়েছিলেন নেইমার (২-১), কিন্তু তা দলের

পরাজয় এড়াতে যথেষ্ট ছিল না।

একটি সোনালী ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান

২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই অভিষেক হয়েছিল নেইমারের।

এরপর ১৬ বছরে ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ১৩০টি ম্যাচ। ৮০টি গোল করে তিনি দেশটির

ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, যা পেলের করা রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়াও তাঁর নামের

পাশে রয়েছে ৫৮টি অ্যাসিস্ট। নেইমারের বর্ণিল ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রাপ্তি ২০১৩

সালের ফিফা কনফেডারেশনস কাপ এবং ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক জয়।

তবে চারটি বিশ্বকাপ খেলেও সোনালী ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখা হলো না তাঁর। থিয়াগো সিলভার পর

দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে চারটি বিশ্বকাপ খেলেও শিরোপাহীন থেকে বিদায় নিতে হলো

তাঁকে।

নেইমারের এই বিদায়ের খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ

ঘাসে যে চঞ্চল তরুণ একদিন বিশ্বজয়ের স্বপ্ন নিয়ে পা রেখেছিলেন, ৩৪ বছর বয়সে সেই মাঠ

থেকেই বিদায় নিলেন এক বুক হতাশা আর অপ্রাপ্তি নিয়ে। ফ্যাব্রিজিও রোমানো তাঁর পোস্টে

নেইমারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে লেখেন, “সবকিছু এখন শেষ।”

নেইমারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটল। কোয়ার্টার

ফাইনালে উঠতে না পারার আক্ষেপ আর কিংবদন্তি নেইমারের বিদায়—সব মিলিয়ে এই পরাজয়

ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের জন্য এক গভীর ক্ষত হয়ে থাকবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন