২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের দীর্ঘ দেড় দশক পর পুনরায় বিশ্বমঞ্চের শেষ চারে জায়গা করে
নিয়েছে স্পেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার
ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লুইস
দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে নকআউট পর্বে জয়ের যে খরা স্প্যানিশ
ফুটবলে বিরাজ করছিল, এই জয়ের মাধ্যমে তার অবসান ঘটল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় স্পেন। খেলার ৩১তম মিনিটে দলের হয়ে
প্রথম গোলটি করেন ফাবিয়ান রুইজ। চোটাক্রান্ত পেদ্রির পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া
রুইজ প্রথমার্ধেই নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেন। লামিন ইয়ামালের বাড়ানো বলে দানি
অলমোর শট বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া প্রতিহত করলেও ফিরতি বলে গোল করতে ভুল
করেননি রুইজ। তবে এর মাত্র ৯ মিনিট পরেই (৪০ মিনিটে) শার্ল ডি কেটেলারার চমৎকার
হেডে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। ১-১ সমতা নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে দুই দল।
ম্যাচের দ্বিতীয় ভাগে ৭০ মিনিটে বেলজিয়ামের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে গোলরক্ষক থিবো
কোর্তোয়ার ইনজুরি। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে তাঁর জায়গায় পোস্টের নিচে দাঁড়ান সিন
লেমেন্স। ম্যাচের শেষ দিকে স্পেন বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পায় যখন গোলরক্ষক উনাই
সিমন বক্সের বাইরে থাকাকালীন সালমেকার্সের একটি বিপজ্জনক ক্রস দারুণভাবে রুখে দেন
ডিফেন্ডার এইমেরিক লাপোর্তে।
খেলার ভাগ্য নির্ধারিত হয় শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায়। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগ
মুহূর্তে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন মিকেল মেরিনো। পাউ কুবারসির শট বদলি
গোলরক্ষক লেমেন্স ঠেকিয়ে দিলেও বক্সে ওত পেতে থাকা মেরিনো ফিরতি বলে লক্ষ্যভেদ করে
স্প্যানিশ শিবিরে উল্লাসের জোয়ার বইয়ে দেন। এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন যেমন শিরোপার
দৌড়ে এক ধাপ এগিয়ে গেল, তেমনি বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের আরও একটি স্বপ্নযাত্রা
অশ্রুভেজা বিদায়ে পর্যবসিত হলো।





