যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের মুখে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের
মতো দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ কিউবা। দেশটির
জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
কিউবার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণকারী রাষ্ট্রীয় সংস্থা ইউএনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
এক্সে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় দেওয়া এক
বার্তায় সংস্থাটি জানায়, দেশের জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তবে কী
কারণে এই আকস্মিক বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা ব্ল্যাকআউট ঘটেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে
কোনো কারণ জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
এর আগে গত ৬ জুলাই কিউবায় ঠিক একইভাবে দেশব্যাপী তীব্র বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছিল। সেই
ঘটনার পর এক সপ্তাহ পার হতে না হতে শুক্রবার আবারও পুরো দেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে
পড়ল। কিউবা বর্তমানে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য
দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে দেশটিতে তীব্র জ্বালানি ঘাটতি এবং
বারবার গ্রিড বিপর্যয়ের মতো ঘটনা ঘটছে।
দেশটির সরকারি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে কিউবার
সামগ্রিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে গড়ে দৈনিক বিদ্যুৎ
বিভ্রাটের পরিমাণ ২০ ঘণ্টায় গিয়ে ঠেকেছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের মোট ঘাটতি বেড়ে
দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৫৫ মেগাওয়াটে।
কিউবা সরকার দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার চরম অবনতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও বৈরী
নীতিগুলোকে দায়ী করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন কিউবার তেল সরবরাহে
ইচ্ছাকৃতভাবে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। পাশাপাশি কিউবার সঙ্গে যেসব আন্তর্জাতিক কোম্পানি
ব্যবসা করছে তাদের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি আন্তর্জাতিক ঋণ এবং
অর্থায়নের ক্ষেত্রেও কিউবার প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ সীমিত করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস গত ১ মে জানায়, কিউবায় দমনপীড়ন এবং মার্কিন জাতীয়
নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির প্রতি হুমকির অজুহাত দেখিয়ে কিউবার কর্মকর্তা ও
বিভিন্ন সংস্থার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরও করেছেন।
এর আগে গত জানুয়ারি মাসেও ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিতর্কিত নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর
করেছিলেন। ওই আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। একই
সঙ্গে যেসব দেশ কিউবার কাছে জ্বালানি তেল বিক্রি বা সরবরাহ করবে, তাদের উৎপাদিত
পণ্যের ওপর অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক আরোপের একটি বিশেষ আইনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা
হয়। এর ফলে কিউবার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট এখন চরমে পৌঁছেছে।





