, ,

যুদ্ধ-খরায় অস্থির কৃষিপণ্যের বাজার, চাল-গম-তুলার দাম ঊর্ধ্বমুখী

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বৈশ্বিক কৃষিপণ্যের বাজারে বড় ধরণের অস্থিরতা

ও ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। এল নিনো আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব এবং মধ্যপ্রাচ্যে

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের ফলে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক ধাক্কার কারণে

আন্তর্জাতিক বাজারে চাল, গম ও তুলার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে

বিপরীত চিত্র দেখা গেছে কফি, চিনি ও কোকোর বাজারে, যেগুলোর দাম এই সময়ে বেশ হ্রাস

পেয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ফিউচার ও কমোডিটি বাজার বিশেষজ্ঞ জাফর এরগেজেন জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের

কারণে হরমুজ প্রণালিতে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়া এবং সার ও জ্বালানির দাম বেড়ে

যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে তীব্র খরার ফলে ধানের ফলন

ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) চালের দাম ২৪ শতাংশ পর্যন্ত

বেড়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কৃষি অঞ্চলগুলোতে তীব্র খরা ও সারের

উচ্চমূল্যের কারণে গমের দাম ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি বুশেল ৬ ডলার ৮৮

সেন্টে পৌঁছেছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অস্ট্রেলিয়াতেও বৃষ্টিপাত কম

হওয়ায় গমের উৎপাদন নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব সম্পর্কে চাক্তাই চাল মিল মালিক সমিতির সাবেক

সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর আজম জানিয়েছেন, দেশে নতুন মৌসুমের ধান আসায় চালের বৈশ্বিক

মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আপাতত পড়বে না। তবে গমের দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারে আটা-ময়দার

দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং জ্বালানি খরচ

বৃদ্ধির কারণে পোশাক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল তুলার দামও ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি

পেয়েছে। বিসিএ-র পক্ষ হতে জানানো হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম বাড়ার ফলে

বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলো সংকটের মুখে পড়তে পারে, কারণ রফতানি আদেশ কমে যাওয়ায়

সুতার কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

চাল, গম ও তুলার দাম বাড়লেও ভিয়েতনাম ও ব্রাজিলে কফির বাম্পার ফলনের কারণে কফির দাম

১৫ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ব্রাজিলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে চিনির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায়

চিনির দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পশ্চিম

আফ্রিকায় ভালো ফলনের সম্ভাবনায় কোকোর দামও ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। তবে সারের

উচ্চমূল্য ও চীনের চাহিদার কারণে সয়াবিনের দাম ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।

সামগ্রিকভাবে, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক রাজনীতি নিত্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে

একটি বড় ধরণের ওলটপালট ঘটিয়ে দিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন