, ,

থাইল্যান্ডে অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জনের প্রাণহানি

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জনের

মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৮ জন।

বার্তা সংস্থা বিবিসি জানায়, মধ্যরাতের পর ফায়ার সার্ভিসকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। দমকল

কর্মীরা সেখানে পৌঁছে দেখতে পান, পানশালার প্রধান দরজাটি দাউ দাউ করে জ্বলছে এবং

সেই আগুনের মাঝখান দিয়েই ভেতরে থাকা মানুষজন বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে বাইরে ছুটে

আসছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পানশালার স্টেজের কাছ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা

মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

থাইল্যান্ডে এ ধরনের দুর্ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগের বিভিন্ন দুর্ঘটনার পর

অগ্নিনির্বাপণ ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সরকারিভাবে নানা

প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে সেগুলোর তেমন কোনো প্রয়োগ হয়নি বলে অভিযোগ

আছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত দমকল কর্মীরা জানান, সোমবার (১৩ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩০

মিনিটের দিকে ওই পথ দিয়ে যাওয়া এক গাড়িচালক পানশালাটিতে আগুন জ্বলতে দেখেন। তিনি

ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, আগুন দেখে তিনি গাড়ি থেকে নেমে পড়েন এবং বারের

জানালা ভেঙে দুজনকে বের হতে সাহায্য করেন। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন

চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, আগুন লাগার সময় বারের ভেতরে পারফর্ম করছিলেন এমন একজন

সঙ্গীতশিল্পীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ওই শিল্পী ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, হঠাৎ

কাট-আউট সুইচে আগুন ধরে যায় এবং এর পরপরই সবকিছু চোখের পলকে ঘটে যায়। একটি

বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয় এবং ধোঁয়া ও আগুনের হাত থেকে বাঁচতে সবাই ছোটাছুটি শুরু

করে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভেতরে থাকা অনেকেই বাইরে বের হতে পারেননি। কারণ তারা

আগুনের শিখা ও বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে বাঁচতে ভবনের পেছনের দিকে চলে যান এবং টয়লেটের

ভেতর আশ্রয় নেন। সেখানেই বেশিরভাগ মরদেহ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, দমকল কর্মীরা প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

কিন্তু ততক্ষণে ৯ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ মোট ২৭ জন প্রাণ হারান। এছাড়া ৬০ জনেরও

বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ব্যাংককের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক সুরিয়াচাই রাভিওয়ান জানান,

প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে বেশিরভাগ ভুক্তভোগীই বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধে

মারা গেছেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও তদন্তের প্রয়োজন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংককের চাতুচাক এলাকার ‘রং বিয়ার না লাত ফ্রাও’ পানশালা

থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর বারের বাইরে সারিবদ্ধভাবে রাখা বহু লাশের ব্যাগ এবং পুরো

এলাকাটি ঘিরে রাখার দৃশ্য দেখা গেছে। ভেতরে আসবাবপত্র, দেয়াল ও ছাদ পুড়ে সম্পূর্ণ

কয়লা হয়ে গেছে। ছাদের কিছু অংশ খসে পড়তেও দেখা গেছে।

থাইল্যান্ডে নাইটক্লাব ও পানশালায় অগ্নিকাণ্ডের ইতিহাস বেশ পুরোনো। চার বছর আগে

ব্যাংককের দক্ষিণে একটি বারে অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন মারা যান। এছাড়া ২০০৯ সালে রাজধানীর

একটি নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুনে ৬৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন