বাংলাদেশে পরিচালিত সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বৈদেশিক
ঋণ গ্রহণের বিদ্যমান নীতিমালা আরও সহজ ও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই
নির্দেশনার ফলে এসব প্রতিষ্ঠান এখন থেকে তাদের মূল কোম্পানি (প্যারেন্ট কোম্পানি),
সহযোগী প্রতিষ্ঠান কিংবা শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে আরও অনায়াসে ঋণ গ্রহণ করতে
পারবে। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য
স্বল্প ব্যয়ে অর্থায়ন নিশ্চিত হবে এবং দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধির
পথ প্রশস্ত হবে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড),
অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) ও হাইটেক পার্কে অবস্থিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এসব
অঞ্চলের বাইরে পরিচালিত সকল বিদেশি মালিকানাধীন উৎপাদন ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানও এই
বিশেষ সুবিধা লাভ করবে। স্বল্পমেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত অঞ্চলের বাইরের
প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে চলতি মূলধনের প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন
ছাড়াই সুদমুক্ত ঋণ নিতে পারবে। এছাড়া ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ
অল-ইন-কস্ট হারে সুদযুক্ত ঋণ নেওয়ারও সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব ঋণ মেয়াদের শেষে
এককালীন পরিশোধযোগ্য হবে এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত তা নবায়ন বা
রোলওভার করা যাবে।
মধ্যমেয়াদী অর্থাৎ এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি ক্রয়, সরঞ্জাম
সংগ্রহ ও নির্মাণকাজের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি বা ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত
সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সুদযুক্ত ঋণ নেওয়ার সীমা
নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ বা ৫ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া পাঁচ বছরের অধিক সময়ের
জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঋণও নেওয়া যাবে, যেখানে বার্ষিক সুদের হার ৩ শতাংশের বেশি হবে না
বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন এই নীতিমালায় বকেয়া বৈদেশিক ঋণকে কোম্পানির
মূলধন বা ইক্যুইটিতে রূপান্তরেরও বিধান রাখা হয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য
বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করবে।





