লেবানন হতে ইসরায়েলি সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক
মহলের প্রবল চাপের মধ্যেই এক বিপরীতমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইসরায়েল। দেশটির
প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগত অঞ্চলগুলোতে স্থায়ী সেনাঘাঁটি
নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘মারিভ’
তাদের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
আইডিএফ ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে মারিভ
জানিয়েছে যে, দক্ষিণ লেবাননের ওপর দীর্ঘমেয়াদী এবং নিরবচ্ছিন্ন সামরিক নজরদারি বজায়
রাখতেই এই স্থায়ী কাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও নিরাপত্তা ও কৌশলগত
কারণে ঠিক কোন কোন স্থানে এই ঘাঁটিগুলো স্থাপন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট
কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উল্লেখ্য যে, গত ২ মার্চ হতে হিজবুল্লাহকে নির্মূলের
লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ১৩৪ জন প্রাণ
হারিয়েছেন এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত বুধবার ইতালির রাজধানী রোমে দুই দেশের
প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু
এলাকা হতে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে চুক্তির কাঠামো ও শর্তাবলী নিয়ে বিস্তারিত
আলোচনা হয়েছে। এর আগে ২৬ জুন একটি শান্তি চুক্তিতে লেবাননের দুটি স্থানে
পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত সংখ্যক সেনা রেখে বাকিদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত
হয়েছিল। তবে বর্তমানে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের এই উদ্যোগ সেই শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য
বড় ধরণের হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের এই অব্যাহত সামরিক অভিযান নিয়ে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর
এক ধরণের প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে থাকলেও
নেতানিয়াহু তাঁর অভিযানে অনড় রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে এ বিষয়ে
কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও দৃশ্যত ইসরায়েল তা অগ্রাহ্য করে যাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের
ক্রমাগত চাপকে পাত্তা না দিয়ে দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের অবস্থান স্থায়ী করার এই
পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





