ভারতের বিতর্কিত মেডিকেল ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের
ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ বা দ্রুত বিচার আদালত
গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লির যন্তর মন্তরে
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র-যুবদের তীব্র আন্দোলনের মুখে বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের
কথা জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নরেন্দ্র মোদী এই
ঘোষণা দিয়ে বলেন, “প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।
তাঁদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ গঠনের
সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
এবং আধিকারিকদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।”
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বক্তব্যে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি
সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে লেখেন, “আমাদের তরুণদের ভাল রাখা এবং তাঁদের
সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনও কিছুই এর চেয়ে বড় নয়।”
তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা
করবে, তাদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। এর আগে এনডিএ সংসদীয় দলের অভ্যন্তরীণ
বৈঠকে তিনি প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনাকে ‘মহাপাপ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে
এতদিন প্রকাশ্যে তাঁর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এবার সরাসরি কঠোর আইনি পদক্ষেপের
ঘোষণা দিলেন তিনি।
এদিকে অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গত ৬ জুন থেকে যন্তর
মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন
চালিয়ে যাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের সমর্থনে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নামার
পাশাপাশি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও দীর্ঘ অনশন পালন করেছেন। গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা
সংসদ অভিযানের চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে
তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের এই হার্ডলাইন ভূমিকার সমালোচনা করেছে রাষ্ট্রীয়
স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। সঙ্ঘের মতে, বলপ্রয়োগ না করে আরও আগে আলোচনার মাধ্যমে
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমন করা উচিত ছিল। তবে আরএসএস শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের
বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভারত সরকার ইতিমধ্যেই সিজেপির প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায়
বসেছে। তবে যন্তর মন্তরে উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। গত বুধবার রাতেও পুলিশ ও
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ হয়েছে, যেখানে পাথর নিক্ষেপ ও কাঁদানে গ্যাস
ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে
রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ
প্রদর্শন করেন। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায়
শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে, যার প্রেক্ষাপটে জাতীয় টেস্টিং
এজেন্সি (এনটিএ) আমূল পরিবর্তনের দাবিও জোরালো হয়েছে।





