নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল
ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার বিকেলে রাজধানীর
মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী
পরিষদের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির আমীর
ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে
প্রকাশিত সংবাদসমূহ গুরুত্বের সাথে নিয়ে একটি সাংগঠনিক তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত নৈতিক স্খলনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠনের
গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
নেওয়া হয়েছে। একই সাথে তাঁর বহিষ্কারের বিষয়টি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ
নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করারও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েকদিন ধরে জনৈক তরুণীর সঙ্গে এই সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত
মুহূর্তের কিছু চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা ও তোলপাড়
শুরু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গাজী নজরুল ইসলাম ওই তরুণীকে তাঁর ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’
হিসেবে দাবি করে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওয়ালে একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছরের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং
আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাসায় আমাদের বিয়ে
সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো
সত্যতা নেই। যারা আমাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র
ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে
দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ তবে তাঁর এই
ব্যাখ্যা দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি এবং তদন্তে নৈতিক বিচ্যুতির প্রমাণ মেলায় তাঁর
বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।





