শনিবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২৫, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

ট্রাম্প তৃতীয় বিশ্ব থেকে অভিবাসন চিরতরে বন্ধ ঘোষণা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে অভিবাসন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তার প্রশাসন এই প্রক্রিয়াটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে উদ্যোগ গ্রহণ করছে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পুনরায় স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানান, অ-নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ফেডারেল সুবিধা ও ভর্তুকি বন্ধ করা হবে। এছাড়াও, তিনি উল্লেখ করেন, যারা দেশের শান্তি নষ্ট করে বা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে এবং যদি বিদেশিরা ‘রাষ্ট্রের বোঝা’ বা ‘পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ হয়, তবে তাদের বহিষ্কার করা হবে।

এই ঘোষণার আগে, বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের কাছে গুলিতে এক ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের মৃত্যু হয়। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই হামলায় একজন আফগান নাগরিক জড়িত থাকতে পারেন। এই ঘটনাটির ঠিক পরে, ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প তার পোস্টে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ রূপে আবার গড়ে তুলতে, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে অভিবাসন প্রক্রিয়া স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিচ্ছি।’ তিনি আরও জানান, তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলে অনুমোদিত ‘লাখো’ মানুষের অভিবাসন অবৈধভাবে নেওয়া বা অনুমতি দেওয়া কার্যক্রমও বাতিল করা হবে।

তিনি ঘোষণা দেন, ‘যারা দেশের জন্য উপকারী নয়, তাদের সবাইকে সরিয়ে ফেলা হবে।’ পাশাপাশি, তিনি জানিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আমেরিকান অ-নাগরিকদের জন্য সব ধরনের সুবিধা আর দেওয়া হবে না।

অতিরিক্তভাবে, তিনি বলছেন, ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি বা পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে মানিয়ে না নিতে পারা বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরে পাঠানো হবে।’ এভাবেই অবৈধ ও অস্থিরতা সৃষ্টিকারী জনসংখ্যা কমানোর লক্ষ্য পূরণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘রিভার্স মাইগ্ৰেশন’ বা উল্টো অভিবাসন বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, পরিস্থিতির সমাধানের জন্য এর বিকল্প নেই।

পোস্টের শেষেও ট্রাম্প মার্কানিক প্রকাশ করেন, ‘থ্যাংকসগিভিং’ এর শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তবে যারা ঘৃণা, চুরি, হত্যা ও দেশি মূল্যবোধের বিরুদ্ধে কার্যকলাপে লিপ্ত, তাদের জন্য এই শুভেচ্ছা প্রযোজ্য নয়। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এই ধরনের মানুষরা খুব শিগগিরই এই দেশে থাকতে পারবেন না।

পোস্টটি শেয়ার করুন