শনিবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২৫, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

হামাস পুরো গাজা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী ও প্রতিরোধ সংগঠন হামাস গাজায় শক্তিশালীভাবে ফিরে এসেছে এবং ইতিমধ্যে পুরো গাজা অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছে বলে স্বীকার করেছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলি নিরাপত্তা রিপোর্টগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হামাস তাদের প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন এবং পুলিশ বাহিনী পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে গাজার অধিকাংশ অংশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। দখলদার সেনারা বলছে, এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য। ইসরায়েলি টিভি চ্যানেল-১৩ জানিয়েছে, তাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মন্ত্রিসভায় যে রিপোর্ট উপস্থাপন করেছে, তাতে বলা হয়েছে যে হামাস গাজা উপত্যকায় তাদের প্রশাসনিক ও পুলিশি কাঠামো পুনরায় গঠন করছে। বাজারে থাকা তথ্য অনুযায়ী, গাজার ২৫টি পৌরসভার মধ্যে অন্তত ১৩টি ইতোমধ্যেই নিজেদের কার্যক্রম শুরু করেছে; হামাসের অধীনস্থ পুলিশবাহিনী পুনরায় মোতায়েন হচ্ছে এবং নতুন চেকপোস্ট স্থাপন করা হচ্ছে। আরব ৪৮ নামে একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে জানা যায়, ইসরায়েলি সেনারা সতর্ক করে বলছেন, হামাস গাজায় বিস্তৃত এলাকায় প্রায় সম্পূর্ণরূপে কর্তৃত্ব ফিরে পেল এবং তাদের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করছে। এর আগে মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে হামাসের জনপ্রিয়তা বেড়ে চলেছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তাই মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে কারণ গত মাসে অস্ত্রবিরতি স্থিতিশীল হওয়ার পর, আবারও হামাসের সদস্যরা রাস্তায় দেখা যাচ্ছে এবং পুলিশের দায়িত্বে থাকছে। গাজার মানুষ হামাসের তৎপরতায় অপরাধ ও লুটপাটের হার কমে আসায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করছে। শহরের একজন ব্যবসায়ী হাজিম সারুর বলেছেন, ‘আমরা নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি চুরি-ডাকাতি ও আইনশৃঙ্খলার এক গভীর অবনতি দেখেছি। হামাস ছাড়া কেউ এটি সামলে উঠতে পারতো না, এ কারণেই তারা মানুষের সমর্থন পেয়েছে।’ একই সঙ্গে মিশর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিদল ২৫ নভেম্বর কায়রোতে মুখোমুখি আলোচনা করে, যেখানে গাজায় অস্ত্রবিরতি এবং শান্তি প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠকে মিশর ও তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা হয় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য যৌথ প্রচেষ্টার ব্যাপারে। অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী নিরস্ত্র দুই ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে যেখানে দেখা যায়, জেনিনে সশস্ত্র বাহিনী ঘিরে রাখার পর নিরস্ত্র দুই যুবককে আত্মসমর্পণ করতে দেখা যাচ্ছে। তারা শার্ট তুলে দেখানোর চেষ্টা করছে এবং মাটিতে শুয়ে পড়েছে। এরপর সশস্ত্র বাহিনী তাদের গুলিবর্ষণ করে, যেখানে নিহত হয়েছেন মনতাসির আবদুল্লাহ বয়স ২৬ ও ইউসুফ আসাসা বয়স ৩৭। ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, তদন্ত করছে এবং কেন গুলি চালানো হয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলছেন না। জেনিনের গভর্নর কামাল আবু আল-রুব এটিকে ‘ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েল পশ্চিমতীরে ঐতিহাসিক রোমান যুগের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও দখলের ভাবনা করছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সরকারের একটি নথিতে বলে হয়েছে, এই দখলে ইসরায়েল ইতিহাসের সবচেয়ে বৃহৎ ভূমি দখলের পরিকল্পনা করছে। এই প্রকল্প রোমান যুগের ধ্বংসাবশেষের নিচে থাকা প্রাচীন সামারিয়া রাজ্যের রাজধানী ও জন দ্য ব্যাপটিস্টের সমাধির পাশাপাশি ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে নিজেদের অধীনে আনতে চায়। এই পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও ইসরায়েল এই অঞ্চলে সহিংসতা অব্যাহত রেখেছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পশ্চিমতীরে প্রায় ৪৫০ একর জমি ধরে আনার পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েল, যেখানে সেবাস্তিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি অবস্থিত। সংস্থাগুলো বলছে, দখলের উদ্দেশ্য এই মহাদেশের ইতিহাসের সাথে গভীর সংশ্লিষ্ট এই প্রাচীন স্থানগুলো নিজের করার পরিকল্পনা।

পোস্টটি শেয়ার করুন