সোমবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

বিএনপির লক্ষ্য গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের ভাবমূর্তি ও কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। দলের ধারণা, দেশের জনগণ এক সময় স্বপ্ন দেখেছিল গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য, যা মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে রচিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কর্তৃত্বি সরকারের কারণে রাষ্ট্রের মূল কাঠামো ভেঙে পড়েছে, যার ফলে দেশের মালিকানা এখন সাধারণ জনগণের হাতে থাকা প্রয়োজন। তাই বিএনপি দাবি করে, দেশের সার্বভৌমত্ব ফিরে আনতে হলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দলটির অঙ্গীকার, যদি তারা নির্বাচিত হয়, তাহলে মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য এক বছরের ভাতা চালু করবে।

বিএনপি সূত্র জানায়, এ বার তরুণ ভোটারদের কাছে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তাদের জন্য বিশেষ প্রচারণা চালানো হবে। দলটি ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে হোক’ এই স্লোগান নিয়ে কাজ করবে। একই সঙ্গে, খাদ্যসহায়তা, কৃষি উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরবে। খাদ্যসহায়তার জন্য তারা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য বীজ ও সার কার্ড, এবং চিকিৎসা সুবিধার জন্য চিকিৎসা কার্ড চালুর কথা জানাবে। নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমঅধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও দলটির প্রচারনায় থাকবে।

বৈঠকে যেমন দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে আলোচনা হয়েছে, তেমনি আগামী নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন কৌশল ও পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এমনকি সাতটি মূল ইস্যু, যেমন– জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, নারী ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া ও ধর্মীয় বিষয়- ভিত্তিক প্রতিশ্রুতি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো শিগগিরই মাঠে নামছে। দলটি নির্বাচনে ক্ষমতায় গেলে পরিবেশ সংরক্ষণ, ৫০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড, পাঁচ কোটির বেশি গাছ রোপণ, দুর্নীতি দমনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে।

অতিরিক্তভাবে, দলটি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার জন্য যুক্তরাজ্যের এনএইচএস মডেল অনুসরণ করবে। জলবায়ু ও পানি নিরাপত্তার জন্য নদী ও খাল পুনরুদ্ধার, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, তিস্তা ও গঙ্গার নতুন ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি থাকবে। অধীনস্থরা যা চাইলেন, যেমন ইমাম-মুআজ্জিনদের মাসিক ভাতা ও সংখ্যালঘুদের জন্য নানা পরিকল্পনা, সেগুলিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে পার্থক্যশীল পাঠ্যক্রম, ক্ষুদ্রব্যবসায় উদ্বুদ্ধকারী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা।

নির্বাচনী প্রস্তুতি হিসেবে, দলের নেতা-কর্মীরা নিজের প্রত্যেক এলাকার ওপর বেশি মনোযোগী, দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেগুলো নিরসনে কাজ করছেন। পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণাকে আরও জোরদার করা হচ্ছে। রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে নিউজ, সোশ্যাল মিডিয়া ও মাঠ পর্যায়ে সমন্বিত প্রচার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিএনপি, যাতে সাতটি পৃথক দলে আলাদা নেতারা থাকবেন। সকল প্রচেষ্টা যেন নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, সেই লক্ষ্যেই দলের সমস্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন