শনিবার, ২৭শে ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২ই পৌষ, ১৪৩২

ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তিতে সুসজ্জিত উৎসব

ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন হচ্ছে নানা জাঁকারো ও আনন্দময় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এই বিশেষ দিনটিতে উপস্থিত হয়েছে স্বল্পবয়স্ক শিক্ষার্থী থেকে প্রবীন শিক্ষার্থী, যারা একসঙ্গে মিলিত হয়ে শৈশবের স্কুল জীবনের স্মৃতিময় মুহূর্তে মেতে উঠেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ডাবন্তি বেলুন উড়িয়ে দুই দিনের এই উৎসবের উদ্বোধন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা ও পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে তারা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতেই, তীব্র শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে ভোর থেকেই স্কুল প্রাঙ্গণে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৯টায় কোরআন তেলাওয়াত, গীতাপাঠ, জাতীয় সংগীতের সমবেত পরিবেশনা, শপথপাঠ এবং অ্যাসেম্বেলির মাধ্যমে শুভ সূচনা হয়।

প্রথম দিনটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মৃতিচারণা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। বেলা ১১টার দিকে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়, যা শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে চলে যায়। শোভাযাত্রাটি প্রেসক্লাব মোড়, জনতা ব্যাংকের মোড়, থানা রোড, কাঠপট্টি, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ রোড ও কোর্ট চত্বরে পরিদর্শন শেষে স্কুলে ফিরে আসে।

যদিও প্রথম দিনটি ছিল মূলত সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড, তবে এ নিয়ে পুরো সপ্তাহজুড়ে চলবে নানা অনুষ্ঠান ও আলোচনা।

ফরিদপুরের এই জিলা স্কুলটি ব্রিটিশ-ভারত শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ১৮৪০ সালে, এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে, এই স্কুলটি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সময়ের সাথে সাথে মর্যাদা ও গৌরবে ভাস্বর হয়ে, এটি আজও এ অঞ্চলের অন্যতম প্রতিপত্তিশালী স্কুল হিসেবে স্বীকৃত।

আয়োজকদের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে গৌরবময় ১৮৫ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটি। এর নেতৃত্বে আছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান শামীম ও সচিব মো. ওয়াহিদ মিয়া কুটি। এই কমিটির পাশাপাশি সফলতামূলক মতামত ও সম্পাদনায় কাজের সুবিধার্থ জন্য গঠিত হয়েছে ১৮টি উপকমিটি।

উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শামীম বলেন, ‘আমাদের mục্য হলো আমাদের প্রিয় স্কুলের সমৃদ্ধ অতীত ও ঐতিহ্যকে সকলের সামনে তুলে ধরা, পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে তাদের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত করানো।’

একইসাথে, অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় গীতিকার ও বাউল শিল্পী জেমস সংগীত পরিবেশন করবেন বলে আয়োজক কমিটি নিশ্চিত করেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন