বাংলাদেশ সরকার বোয়িং থেকে ১৪টি নতুন বিমান কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি নিশ্চিতভাবে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা, যখন গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্তের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর থেকে মূল্য নির্ধারণ ও চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিমান সংস্থার সূত্র জানিয়েছে, বোর্ড সভায় বোয়িংয়ের ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রস্তাবিত বিমান বিক্রয় পরিকল্পনা ও ২০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ পাঠানো সংশোধিত চুক্তির খসড়া পর্যালোচনা করা হয়। জানানো হয়, বোয়িং কোম্পানি দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের বিমান বিক্রি করতে ইচ্ছুক। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে বোর্ড নীতিগতভাবে এর সমর্থন দেয় এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমোদন করে।
মূলত, বাংলাদেশ সরকারের এই বড় রকমের বিমান ক্রয় পরিকল্পনা এক সময়ে এসেছে যখন তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নিচ্ছে। এটি মূলত বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর এবং রপ্তানি শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুর রহমান এক চিঠিতে জানিয়েছেন, এই বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত চুক্তির আগের শুরু মাত্র। এই চিঠিতে বলা হয়, চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত বিমান সংস্থাটি কোন আর্থিক বা আইনি দায়িত্বে থাকবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বহুরঙের বিমান ফ্লোটের সম্প্রসারণ বিমান সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা বাড়াবে এবং দেশের বিমানের খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এদিকে, মূল সিদ্ধান্তের পর এখন একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে, যা বোয়িং থেকে কেনার দরদাম ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। এর আগে, গত বছর জুলাইয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, বিপরীত শুল্ক বিষয়ে আলোচনা শুরুর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে কিছু বিমান আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বোয়িং কোম্পানি তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ করবে এবং অর্ডার দেওয়ার পর সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় অংকের এই বিমান কেনার ঘোষণা দেওয়ার পর ইউরোপের কূটনীতিকরা গভীর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন, বিশেষ করে এয়ারবাস বিক্রির জন্য। এমনকি, প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও সরাসরি আলোচনা চালাচ্ছেন তারা।





