শনিবার, ৩রা জানুয়ারি, ২০২৬, ১৯শে পৌষ, ১৪৩২

খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’ এখন নীরব ও নিস্তব্ধ

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ বর্তমানে এখন গভীর শূন্যতা ও নিস্তব্ধতার মধ্যে রয়েছে। এই বাড়িতে দীর্ঘ দিনের স্মৃতি ও আবেগের বন্ধন যুক্ত থাকলেও এখন সেখানে উপস্থিতি নেই কোনো জনসমাগম বা আবেগময় কার্যক্রম। খালেদা জিয়া এই বাড়িতেই বসবাস করতেন, যা তার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অংশ। ঢাকা সেনানিবাসের মহানিবাসে অবস্থিত তাঁর পুরোনো বাড়িটি, যেখানে তিনি জিয়াউর রহমানের সময় সেনাপ্রধান ও পরে রাষ্ট্রপতি ছিলেন, মৃত্যুর পর থেকে তার জন্য একটি স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে রয়ে গেছে। তবে এক-এগারোর পর শাসকগোষ্ঠী শেখ হাসিনার সরকারের শাসনামলে সেই বাড়ি থেকে তাকে উচ্ছেদ করা হয়। এরপর গুলশানের এই বাড়িটিই খালেদা জিয়ার জন্য ‘ফিরোজা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কমবেশি তিন বছর আগে, ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তাকে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয় পুরান ঢাকার আদালত থেকে। মহামারির সময়, স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায়, শেখ হাসিনা সরকারের শর্তে তাকে শর্তসাপত্তি দিয়ে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়। তখন থেকে ফিরোজায় তিনি বাস করছেন। যদিও সম্প্রতি খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে তার বাসস্থান এখনো তাঁর স্মৃতিতে জীবিত, নিরাপত্তা বাহিনী ও কর্মীরা সতর্ক ও অবিচল থাকছেন। ফিরোজার নিরাপত্তাকর্মীরা বলছেন, ‘ম্যাডাম এখন নেই, বাড়ি ফাঁকা; ভেতরে প্রবেশ করলে এক ধরনের শূন্যতা অনুভব হয়। আশা করি, আল্লাহ উনিকে পরপারে ভালো স্থান দান করবেন।’আরেক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ‘ম্যাডাম সবসময় আমাদের খোঁজখবর নিতেন, আমাদের খাওয়া-দাওয়া সম্পর্কে চিন্তা করতেন। উনি আমাদের জন্য ছিলেন মা হিসেবেই।’ এই বাড়ির পাশে থাকা বাসিন্দারা ও নিরাপত্তাকর্মীরা শোকের ছায়ায় থাকলেও গুলশানের নিরিবিলি পরিবেশে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা তাদের শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন। সম্প্রতি, এই বাড়ির সামনের নিরাপত্তা পোশাক পরিহিত কর্মীরাও শোকের ছায়া আঁচড়েছেন। গুলশান অ্যাভিনিউ ডিপ্লোম্যাটিক জোনের আওতায় থাকায় সেখানে বড় ধরনের জনস্রোত দেখা যায়নি, তবে আশপাশের মানুষরা শোক প্রকাশ করছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই শোকের আবহানির মধ্যে, বিএনপি ও তার নেতাকর্মীরা শোকস্তব্ধ। গুলশানের বিএনপি কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিত পতাকা অঙ্গীকারের পাশাপাশি শোক বই খুলে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও দলের নেতাকর্মীরা সেখানে শোকপ্রকাশ করেছেন, কেউ কেউ উপস্থিত ছিলেন দেশের আলোচিত ব্যক্তিত্বও। শারমীন এস মুর্শিদ, যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জেকবসন, ইরানের রাষ্ট্রদূত মনসুর চাভুশি, ছারছীনা দরবার শরিফের পীর-মুরশিদ মাওলানা মুফতি শাহ আবু নছর নেছার উদ্দিন আহমেদ ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনরা এসব শোক ও প্রার্থনা ব্যক্ত করেন। এ সময় নেতাকর্মী ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা ভিড় করেন। গুলশানের বাসিন্দা ও দলের নেতাকর্মীরা বলেন, এই শোক মাধ্যমে তাদের মন ভেঙে গেছে। বিখ্যাত নেতা খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে যারা তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন, তাদের মাঝে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। বুধবার তার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তার শেষ বিদায় জানানো হয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন