রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজারে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ঝুলছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের কারণে দিনে-রাতে পথচারীরা আতঙ্কে থাকেন। সড়ক, বাসা-বাড়ি, মার্কেট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে এই বিপজ্জনক হাই-ভোল্টেজ লাইনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বেড়েই চলেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গোয়ালন্দ বাজার রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি ও তার রয়েছে। কোথাও বা বাড়ির ছাদ বা জানালা লাগোয়া স্থানে বিদ্যুতের তারের জাল লেগে আছে। পৌরসভার এই জনবহুল বাজার এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটির সাথে অপ্রয়োজনীয় তারের জটলাও লক্ষ্য করা গেছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, এই লাইনের কারণে কখনোও দুর্ঘটনা হতে পারে বলে শঙ্কিত তারা। কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন রিদয় সুপার মার্কেটের পাশে দ্বিতীয় তলায় থাকা খুঁটিতে তার জটলা দেখে আতঙ্কে আছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজারের বড় মসজিদ সংলগ্ন আলআমিন লাইব্রেরির পাশেও রয়েছে একটি জঞ্জালপূর্ণ বিদ্যুতের খুঁটি। জরাজীর্ণ বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইনগুলি ঝুঁকিপূর্ণভাবে ছুঁই ছুঁই করছে বলে স্থানীয় অনেক ভবনের মালিক জানান, তারা বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠতেছে।
ওজোপাডিকো গোয়ালন্দ বিদ্যুৎ সরবরাহের (ভারপ্রাপ্ত) আবাসিক প্রকৌশলী তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ভবন নির্মাণের পর এ ধরনের লাইনের জন্য পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই করতে হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করে ধারটি টানা উচিত। বিদ্যুৎ আইনে হাইভোল্টেজের লাইনের নিচে কোনো ভবন বা স্থাপনা থাকতে পারবে না, ডান ও বামের দিকেও কমপক্ষে ১০ ফুটের ফাঁকা থাকতে হবে। কিন্তু স্থানীয় এলাকা ও বাজারের আশেপাশে নতুন বাড়িঘর নির্মাণের কারণে এই দূরত্ব সংকোচন হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, জরাজীর্ণ খুঁটি ও তারের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো হবে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পাশাপাশি গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোয়ালন্দ পান বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে তিনটি ক্রোকারিজের দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়। এতে তিন ব্যবসায়ীর প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।





