বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ছাড়িয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার, যা গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এই রিজার্ভের বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি ও স্টেবিলিটির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর আগে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ এই স্তরে পৌঁছেছিল। ২০২১ সালে রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়নে পৌঁছেছিল, তবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। চলতি মাসের প্রথম ২৯ দিনেই প্রবাসী আয় এসেছে মোট ৩০৪ কোটি ডলার, যা ডলার সংকট কাটানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করেছে। এ সময়ে নিপুণভাবে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে গত মার্চ মাসে রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল, যা এখন পর্যন্ত দেশের একক সর্বোচ্চ। এই ধারা অব্যাহত থাকায় দেশের রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলার। এই প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে নেওয়া চালু হয়েছে, পাশাপাশি বিদেশি ঋণও প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে গত মঙ্গলবার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) হিসাব অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ এখন ২ হাজার ৮৫১ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকে জানানো হয়, গত সপ্তাহে সাতটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার নিলামে বিক্রি করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে। এই সমস্ত ডলার বিক্রির মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১৩ কোটি ডলার। বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে এককভাবে এক বিলিয়নের বেশি ডলার কেনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক সভায় বলেছেন, “ডিসেম্বরের শেষে রিজার্ভ ৩৪-৩৫ বিলিয়নে পৌঁছাবে। এটি হবে নিজেদের দেশের শক্তি অর্জনের প্রমাণ, যেখানে আন্তর্জাতিক ঋণের পরিবর্তে ডলার কেনার মাধ্যমে রিজার্ভ বৃদ্ধি করা হবে, যা একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত।”





