শনিবার, ১০ই জানুয়ারি, ২০২৬, ২৬শে পৌষ, ১৪৩২

তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যেই বেড়েছে এলপিজির দাম

রাজধানীতে গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুটি চুলা একসঙ্গে জ্বালানো অসম্ভব হয়ে গেছে। এক চুলাও বেশি সময় ধরে জ্বালানো যাচ্ছে না, ফলে দিনের বেলা রান্না ও পানির গরমের মতো প্রয়োজনীয় কাজগুলো খুবই বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাসাবাড়ির জন্য মূল ভরসা হওয়া এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া ঝঞ্ঝাটে পড়ে গেছে। হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও সাধারণ পরিবারের গ্রাহকদের জন্য এই গ্যাসের সরবরাহ ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। খুচরা দোকানগুলোয় বর্তমানে এই গ্যাসের সিলিন্ডার মেলছে না এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে, অথবা যেখানে রয়েছে, সেখানে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেকেই অন্যান্য বিকল্প হিসেবে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই গ্যাস সংকটের পরিস্থিতিতে নতুন বছর শুরুতেই দেশের ক্রেতাদের জন্য বড় ধাক্কা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। জানুয়ারি মাসের জন্য এলপিজির নতুন মূল্য ঘোষণা করেন নির্ধারক সংস্থার চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি জানান, এই মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বেশি করে নির্ধারণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন বিইআরসির সদস্যরা—including মিজানুর রহমান ও মো. আবদুর রাজ্জাক। চেয়ারম্যান জানান, কোম্পানিগুলোর এলপিজি আমদানির খরচ ও অন্যান্য ঝামেলার হিসাব করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহে মূল সমস্যা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জাহাজ আমদানি ও এলসির জটিলতা। তিনি আশ্বাস দেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং রোববার থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। তবে এই পরিস্থিতি শুধু রাজধানীতেই নয়, গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, আশুলিয়া ও জামালপুরের মতো এলাকােগুলোর গ্যাসেরও স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা – মতিঝিল, গোপীবাগ, টিকাটুলী, মোহাম্মদপুর, বনশ্রী, মিরপুর, ধানমন্ডি, বাসাবো, মান্ডা, মানিকনগর, বাড্ডা, মৌচাক, মগবাজার, এলাকা গুলিতে গ্যাসের চাপ খুবই কম। এই পরিস্থিতির ফলে অনেক গ্রাহক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে their অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। অনেকেরই গ্যাসের স্বল্পতা ও চাপে রান্নায় দুর্ভোগের কথা উঠে এসেছে। গ্যাসের এই সংকটের কারণ ও সমাধানের জন্য স্থানীয় গ্যাস কোম্পানির প্রতিনিধিরা আশ্বস্ত করলেও পরিস্থিতি আরও কিছু দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা রয়েছে। পাশাপাশি, অটোগ্যাসের দামও বেড়ে দুই টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্য বৃদ্ধির ফলে বাসাবাড়ির রান্নার খরচ ও যানবাহনের পরিচালন ব্যয় কিছুটা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। ২০২১ সাল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি, যেখানে মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের মূল দামে পরিবর্তন আসায় মূল্য সমন্বয় করা হয়। সব মিলিয়ে, এই মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ অস্বাভাবিকতা জনজীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন