সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ১৪ সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং মোট ১৫ জনের দেশের বাইরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে একটি বিশেষ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের যাতে তদন্ত চলাকালীন সময়ে দেশ ত্যাগ করা না যায়, সে জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম এই নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা তালিকায় ওবায়দুল কাদেরের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সাবেক সচিবরাও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব খবরকার আনোয়ারুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মো. নজরুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, বিদ্যুৎ বিভাগের আহমদ কায়কাউস, ভূমি মন্ত্রণালয়ের মো. আবদুল জলিল এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জাফর আহমেদ খান। এছাড়া আরও নাম রয়েছে—সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সংসদবিষয়ক বিভাগের মোহাম্মদ শহিদুল হক, এসডিজি-অভিযুক্ত মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মো. মোফাজ্জেল হোসেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কাজী শফিকুল আযম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আখতার হোসেন ভূঁইয়া, এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।
দুদকের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। তারা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ জমিতে ব্যক্তিগত স্বার্থে ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন করেন এবং নীতিবহির্ভূতভাবে ফ্ল্যাট বরাদ্দের নীতিমালা প্রণয়ন করেন। এমনকি, এসব নীতিমালা বৈধভাবে গেজেট বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে প্রকাশ না করেই কার্যকর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তের মাধ্যমে জানা গেছে, অভিযুক্তরা পরিবারসহ বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদি তারা একবার দেশ ত্যাগ করতে সক্ষম হন, তবে মামলার কার্যক্রম ও তদন্ত ব্যাপকভাবে ব্যাহত বা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে, রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি অপরিহার্য বলে মনে করেছেন আদালত।





