বৃহস্পতিবার, ৮ই জানুয়ারি, ২০২৬, ২৪শে পৌষ, ১৪৩২

আমি এখনো প্রেসিডেন্ট, আমাকে অপহরণ করা হয়েছে—মার্কিন আদালতে বললেন মাদুরো

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর প্রথমবারের মতো একজন মার্কিন আদালতে হাজির করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার নিউইয়র্কের একটি আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন প্রক্রিয়ায় আসামি হিসেবে তার বিরুদ্ধে মূলত মাদক সন্ত্রাসবাদ (নারকো-টেররিজম) এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরক ডিভাইস ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তবে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মাদুরো তার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে বলেছেন যে, তিনি এখনো তার দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট। গ্রেপ্তার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে তিনি বলেন, তাকে দেশের বাইরে থেকে অপহরণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনানো হয়েছে।

গত শনিবার মধ্যরাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী, ‘ডেল্টা ফোর্স’ নামের একটি শক্তিশালী অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। তাদের সরাসরি বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। সোমবারের শুনানিতে মাদুরোর পাশাপাশি তার স্ত্রীর উপস্থিতিও ছিল, আর তারা দুজনেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। মাদুরোর আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছেন যে, তার ক্লায়েন্ট আপাতত জামিনের জন্য আবেদন করেননি, তবে ভবিষ্যতে পরবর্তী পদক্ষেপে তা করবেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে আদালত আগামী ১৭ মার্চ এর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

অদ্যপোস্থwithin মামলার শুনানি চলাকালে আদালতের ভেতরে বেশ উত্তেজনা দেখা দেয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যালারিতে একজন ব্যক্তি স্প্যানিশ ভাষায় উচ্চস্বরে চিৎকার করে মাদুরোকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, তিনি যা করেছেন তার জন্য তাকে উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে। এই মুহুর্তে মাদুরো স্প্যানিশে জবাব দেন, ‘আমি সাধারণ অপরাধী নই, আমি একজন অপহৃত প্রেসিডেন্ট এবং আমি যুদ্ধবন্দি।’ মাদুরোর এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই আদালত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর তার স্ত্রীর এক আবেগঘন মুহূর্তের দৃশ্য দেখা যায় যখন তাকে পডিয়ামে উঠানো হয়, এবং আদালত কক্ষের ভেতর কাঁদার শব্দ শোনা যায়। এই উচ্চপ্রোফাইল মামলার কর্মকাণ্ড বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন