এক সপ্তাহ ধরে চলমান তীব্র অস্থিরতায় ইরানে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে বলে অধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে। এই অস্থিরতা শুরু হয় গত রোববার (৪ জানুয়ারি) থেকে, যখন দেশজুড়ে মহামন্দার কারণে জীবন যাপনের খরচ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে। সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে রাস্তায় নেমে আসে, এবং সেই প্রতিবাদে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী স্পষ্টভাবে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পুরো সপ্তাহ জুড়েই নিহত ও গ্রেপ্তারদের সংখ্যার খবর প্রকাশ পায় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অধিকার সংস্থাগুলোর মাধ্যমে, তবে পরিসংখ্যানের মধ্যে বিভিন্নতা দেখা গেছে, কারণ স্বতন্ত্রভাবে এসব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ২০২২ সালে পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে ২২ বছর বয়সি কুর্দি তরুণী মাজা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে এটি ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের ঘটনা; যদিও তৎকালীন বিক্ষোভের তুলনায় এবারের প্রতিবাদ somewhat কম তীব্র।
সরকারি পর্যায়ে বিক্ষোভের ব্যাপারে শনিবারের মতো শুরুর সময়টুকু শান্ত ছিল, কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন যেন তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেয়। এরপর, মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড পতনের পর, রোববারে তেহরানের গ্রান্ড বাজারের দোকানিরা ধর্মঘটে চলে যায়, যা পরে পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, অস্থিরতা চলাকালে অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, তবে কুর্দি অধিকার সংস্থা হেঙ্গো প্রতিবেদনে দাবি করে, বিক্ষোভের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৭জন। অন্য আরেকটি সংস্থা হরানা জানায়, অন্তত ১৬ জন নিহত ও ৫৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রধান আহমদ রেজা রাদান দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাজধানী তেহরান থেকে ৪০ জন গ্রেপ্তার হয়, যাঁরা প্রায় সবাই প্রতিবাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এসব ঘটনার মধ্যে সংঘর্ষ, প্রতিবাদ ও গ্রেপ্তারি চলমান থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।





