শুক্রবার, ৯ই জানুয়ারি, ২০২৬, ২৫শে পৌষ, ১৪৩২

নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের খসড়া অধ্যাদেশ প্রণয়নের পরিকল্পনা

নারায়ণগঞ্জ এবং এর আশপাশের এলাকার উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণে একটি পরিকল্পিত নগরী গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একটি খসড়া অধ্যাদেশ প্রস্তুত করেছে, যা এখন সংশ্লিষ্ট মহলে মতামত সংগ্রহের পর্যায়ে রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ শীতলক্ষ্যাজোড়া বাণিজ্যিক অঞ্চলে ভূ-প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, অবৈধ ও অপ্রয়োজনীয় নগরায়ন রোধ, দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশ এই কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এই নতুন কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে থাকবেন একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য। এই পদে মেয়াদ হবে তিন বছর, এবং কেউ একের বেশি মেয়াদে এই দায়িত্বে থাকতে পারবে না। এছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আরও পাঁচজন বিশেষজ্ঞ এই কর্তৃপক্ষের সদস্য হিসেবে যোগ দেবেন।

খসড়ায় কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও দায়িত্বাবলী বিস্তারিতভাবে নির্ধারিত হয়েছে। এরা একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করবে এবং এর আওতাধীন এলাকা থেকে ভূমি কেনা, অধিগ্রহণ ও উন্নয়নের জন্য ফি নির্ধারণের দায়িত্ব কেবল এই কর্তৃপক্ষের। এই মহাপরিকল্পনার বাইরে অন্য কোন কাজে ভূমি বা জলসম্পদের ব্যবহার করা যাবে না। যদি কেউ এই সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘন করেন, তবে তাকে এক বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। বিশেষত জলাধার সংরক্ষণের জন্য খসড়ায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নদী, খাল বা অন্যান্য প্রাকৃতিক জলাশয়ে বাধা দেওয়া, পানিপ্রবাহ বন্ধ করা বা জলাধার ভরাট করলে দন্ডের ব্যবস্থা আছে। প্রথমবারের জন্য দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানার সংস্কার রয়েছে।

আরও জানিয়েছে, খেলার মাঠ, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধারের পরিবর্তন বা শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ২০০০ সালের সংরক্ষণ আইন কার্যকর থাকবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে এক আধুনিক ও সচেতন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের এই পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন