রবিবার, ১১ই জানুয়ারি, ২০২৬, ২৭শে পৌষ, ১৪৩২

বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ বিভাগীয় অধ্যাদেশ ২০২৬ জারি: গাছ কাটলে জরিমানা এক লাখ টাকা

দেশের বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয়েছে। গত বুধবার আইনমন্ত্রীালয় থেকে এই সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ পেয়েছে। এই নতুন আইনের মাধ্যমে বন ও গাছের রক্ষা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অध्यাদেশ অনুযায়ী, সরকার কর্তৃক তালিকাভুক্ত কোনও নিষিদ্ধ প্রজাতির গাছ বা বন বিভাগের ঘোষিত বিপদাপন্ন গাছ কাটা আইনত দণ্ডনীয়। গাছ কেটে ফেললে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। এছাড়াও, গাছের ক্ষতি করার জন্য ধাতব বস্তু বা পেরেক লাগানোর জন্য ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। তবে, গাছের ক্ষতি রোধে ক্ষতিপূরণমূলকভাবে নতুন চারা রোপণ বা বনায়ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, অনুমতি সাপেক্ষে গাছ কাটলেও যদি নিয়ম লঙ্ঘন হয়, তবে আকস্মিক জরিমানা—অন্তত ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।”

অধ্যাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বনভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ। এখন থেকে জেলা প্রশাসন বনভূমির ইজারা দিতে পারবে না, এবং সমস্ত বনভূমি সরাসরি বন বিভাগের রেকর্ডে আনা হবে। যদিও কিছু বন রক্ষিত বা অর্জিত থাকলে মালিকানা জেলা প্রশাসনের কাছে থাকতে পারে, তবে এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে সম্পূর্ণভাবে বন বিভাগের। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ বিভাগ এই বিষয়ে দ্রুত কাজ করতে নির্দেশনা পেয়েছে। এছাড়াও, কোনও শিল্প এলাকার এক্যাকরের কম বনভূমি থাকলে, জনস্বার্থ বিবেচনায় তা বিনিময় করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, শর্ত হলো, দ্বিগুণ জমি বন বিভাগকে হস্তান্তর করতে হবে যা পরে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

গাছ কাটার আগাম অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি বন, সামাজিক বন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সম্পত্তিতে থাকা গাছ কাটতে হলে বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হবে। ব্যক্তিগত জমির গাছেও যদি তা সরকারি তালিকায় থাকে, তবে একই রকম অনুমতি আবশ্যক। কিছু পরিস্থিতিতে অবিলম্বে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যেমন—মৃত বা রোগাক্রান্ত গাছ, ঝড় বা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাছ ও জীবন-সম্পদে ঝুঁকি সৃষ্টি করা গাছ। পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়ম স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত হবে, যেখানে ‘চট্টগ্রাম হিলট্র্যাকস রেগুলেশন, ১৯৯০’ অনুসরণ করে, এবং কাটা গাছের বিপরীতে সমসংখ্যক চারা রোপণ বাধ্যতামূলক।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এই অধ্যাদেশকে সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই আইনের ফলে দেশের পরিবেশের সুরক্ষা আরও সুদৃঢ় হবে এবং বনজ সম্পদের ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে। প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, এই আইনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গাছ ও সাধারণের জন্য থাকা বৃক্ষরাজি রক্ষা সম্ভব হবে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে খসড়া পর্যায়ে থাকা এই অধ্যাদেশ এখন বাস্তবায়ন হয়ে প্রকাশিত হয়েছে, যার মাধ্যমে বনভূমির অখণ্ডতা রক্ষা ও গ্রাস এড়ানো সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞরা একে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ এবং বাসযোগ্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন