শুক্রবার, ৯ই জানুয়ারি, ২০২৬, ২৫শে পৌষ, ১৪৩২

ডিসেম্বরে নির্মাণ খাতে সংকোচন, সামগ্রিক অর্থনীতিতে ধীর গতি

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) প্রকাশ হয়েছে। এ সূচক দেখাচ্ছে যে, কৃষি, উৎপাদন এবং সেবাখাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও নির্মাণ খাত আবারও সংকোচনের মুখোমুখি হয়েছে। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি কিছুটা বেড়েছে, তবে এটি এখনও খুব শক্তিশালী নয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) বুধবার (৭ জানুয়ারি) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বর মাসে পিএমআই ০.২ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪-এ পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, ৫০ পয়েন্টের উপরে থাকা অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের संकेत দেয়, আর নিচে থাকা সংকোচনের ইঙ্গিত করে।

পিএমআই একটি অগ্রগামী সূচক, যার লক্ষ্য দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির নির্ভুল ধারণা প্রদান করা। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং নীতিনির্ধারকরা বুঝতে পারেন কোন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে অর্থনীতি।

এই সূচকটি তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সহায়তা, সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্ট (এসআইপিএমএম)-এর কারিগরি সহযোগিতা ও অন্যান্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সঙ্গতিপূর্ণ প্রচেষ্টা কাজে লেগেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বর মাসে কৃষি, উৎপাদন এবং সেবাখাতের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় overall পিএমআই সূচক সামান্য উন্নতি করেছে। তবে, তিন মাস ধরে চলমান প্রবৃদ্ধির পর নির্মাণ খাত আবার সংকোচনে ফিরে এসেছে।

কৃষি খাতে চতুর্থ মাসের মতো সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে, এবং ডিসেম্বরে এর গতি আরও বেড়েছে। নতুন ব্যবসা শুরুকরণ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান ও ইনপুট ব্যয়ে ইতিবাচক নির্দেশনা দিয়েছে। তবে, অর্ডার ব্যাকলগ দ্রুত কমে যাওয়ায় কাজের সম্পন্ন করার সক্ষমতায় চাপ পড়ছে।

উৎপাদন খাত এই নির্ধারিত সময়ে ১৬তম মাসের মতো সম্প্রসারণে থাকলেও, নভেম্বরের তুলনায় এর গতি কিছুটা কমে গেছে। নতুন অর্ডার, রপ্তানি অর্ডার, কারখানার উৎপাদন, কাঁচামালের ক্রয়, আমদানি, ইনপুটমূল্য, কর্মসংস্থান এবং সরবরাহের সূচকগুলোতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য রক্ষা পেয়েছে।

বিশেষ উল্লেখযোগ্য, সমাপ্ত পণ্যের সূচক আবার অবনমন থেকে উঠে এসেছে। তবে অর্ডার ব্যাকলগ কমছে, এবং এর গতি শ্লথ হলেও সংকোচনের হার ধীরে ধীরে বাড়ছে।

অন্য দিকে, ডিসেম্বরে নির্মাণ খাত আবার সামান্য সংকোচনের মুখে পড়েছে। নতুন ব্যবসার সূচক সংকোচনের হার বাড়িয়েছে, যদিও নির্মাণ কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান ধীরগতিতে অব্যাহত রয়েছে। ইনপুট ব্যয়ের পরিমাণ সামান্য বেড়েছে। পঞ্চম মাসের মতো, অর্ডার ব্যাকলগও কমছে, তবে সংকোচনের হার কিছুটা ধীর হয়ে এসেছে।

সেবা খাত টানা ১৫তম মাসের মতো বিস্তার লাভ করছে, এবং ডিসেম্বরে এর গতি সামান্য বেড়েছে। কর্মসংস্থান ও ইনপুট ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও, নতুন ব্যবসা ও অর্ডার ব্যাকলগে সংকোচন দেখা যায়, যা চাহিদার অস্থিতিশীলতা নির্দেশ করে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিতে ধারণা হচ্ছে, সব খাতে—কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা—বাবৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলেও তার গতি তত শক্তিশালী নয়। সুতরাং, এই সূচকের মাধ্যমে ভবিষ্যৎে ধীরগতির অর্থনৈতিক চিত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটির ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেছেন, ‘সর্বশেষ পিএমআই সূচক সামান্য অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের সংকেত দেয়, যার মূল ভিত্তি শক্তিশালী কৃষি খাত।’ তিনি আরও বলেন, ‘উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে, এবং নির্মাণ খাত আবার সংকোচনে ফিরে গেছে। তবে, ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচক সব মূল খাতে সফলতা দেখাচ্ছে এবং এটি নির্বাচনের পরেও অব্যাহত থাকলে স্থিতিশীলতা ও উন্নতির আশা জাগায়।’

পোস্টটি শেয়ার করুন