দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা থেকে ব্যবসায়ীরা। এই সংকটের কারণ এবং এর প্রতিকার চেয়ে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি একটি কঠোর আলটিমেটাম দিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের পাঁচ দফার দাবি মানা না হয়, তবে সারা দেশে এলপি গ্যাসের সরবরাহ ও বিক্রি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, বর্তমানে দেশে ২৭টি কোম্পানির মোট দেড় কোটি ২৫ লাখ এলপিজি সিলিন্ডার রিফিল হচ্ছে, আর বাকি ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে। এর ফলে গৃহস্থালি, শিল্প, ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত এই গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসের সরবরাহ ব্যাপক হারে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তারা উল্লেখ করেন, দাম বাড়ানোর জন্য বিইআরসি ও কোম্পানিগুলোর অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত এবং অনভিজ্ঞ ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানের কারণে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে, যা সংকটকে আরও তীব্র করছে। পাশাপাশি, অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে দেশে পরিবেশকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা বাড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম খান দাবি করেন, বিইআরসি মাসে একবার মূল্য ঘোষণা করলেও কোম্পানিগুলো অনেকবার মূল্য সমন্বয় করছে, যার দায় মূলত পরিবেশকদের ওপর। এ সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি স্থায়ী কমিটি গঠন এবং পরিবেশক ও রিটেইলারদের জন্য কমিশন বৃদ্ধি کی প্রস্তাব দেন।
সংগঠনের মতে, বর্তমানে দেশের প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ সিলিন্ডার রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার রিফিল হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় এই ঘাটতি ৬০ শতাংশের বেশি, যার ফলে পরিবেশকদের অতিরিক্ত খরচ এবং মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে। বেশ কয়েকটি কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবেশকদের মধ্যে দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারকে কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভর্তুকি দেয়া, নিষ্ক্রিয় সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত ও ভোক্তা ও পরিবেশকদের হয়রানি রোধের দাবি জানানো হয়।
অন্যথায়, সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দাবি মানা না হলে ৮ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী এলপি গ্যাসের সরবরাহ ও বিক্রি অচিরেই বন্ধ করে দেওয়া হবে, যা দেশের গ্যাস ব্যবহারকারী সব শ্রেণির জন্য বড় বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।





