শুক্রবার, ৯ই জানুয়ারি, ২০২৬, ২৫শে পৌষ, ১৪৩২

বাংলাদেশে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির দিক নজর পাকিস্তানের

বাংলাদেশের কাছে চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি করা জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর দুই প্রধানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ব্রিটিশ সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এই আলোচনা এই অঞ্চলের অস্ত্র রপ্তানির পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবং বাংলাদেশে সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত বছরের মে মাসে, যেখানে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সংঘাত ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ, সেক্ষেত্রে পাকিস্তান তাদের বিমান বাহিনীর সফলতাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল। সেই সময়ের সংঘাত ছিল পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পন্ন দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর লড়াই।

বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খান এই আলোচনা চালিয়েছেন চীন-পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়ে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, পাকিস্তান দ্রুত বাংলাদেশকে ‘সুপ্রশিক্ষিত’ জেট বিমান সরবরাহ করতে আশ্বাস দিয়েছে, এবং পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

এই যুদ্ধবিমান কিনতে আলোচনা বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির লক্ষ্যে হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছর আগস্টে, ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে ঢাকা-নয়াদিল্লির সম্পর্কের অবনতি হয়। এরপর এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ধীরে ধীরে ঘনিষ্টতা বাড়তে থাকে।

পাকিস্তানের আইএসপিআর-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফর দুই দেশের শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে এবং গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য যৌথ লক্ষ্যপ্রতিপাদন করেছে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরাসরি বাণিজ্য ও সামরিক সম্পর্ক পুনরায় শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, দুই দেশের সামরিক আধিকারিকদের মধ্যে বহু সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রায় এক দশক আগে থেকে পাকিস্তানের অস্ত্র তৈরির কর্মসূচির মূল অংশ হয়ে উঠেছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান। এই বিমান আজারবাইজানের সঙ্গে চুক্তি এবং লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তির অংশও।

মন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়নে দেশের অস্ত্রশিল্পের সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, পাকিস্তানের বিমান পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য, এবং বর্তমানে বাজারে অর্ডার এত বেশি যে ছয় মাসের মধ্যেই দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে, এমনকি আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রয়োজনও হবে না।

পোস্টটি শেয়ার করুন