চেচেন নেতা রমজান কাদিরভকেও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো করে তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনেস্কি। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ দাবি করেন। জেলেনেস্কি কৌতুক করে বলেন, যদি মাদুরোর মতো একই রকম ঘটনা ঘটে রমজান কাদিরভের ক্ষেত্রেও, তাহলে তা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত রাশিয়ার উপর আরও চাপ সৃষ্টি করা। তাদের হাতে অনেক অস্ত্রশক্তি আছে, যা তারা জানে কিভাবে ব্যবহার করতে হয়। যখনই তারা ইচ্ছা করবে, কোনো উপায় খুঁজে পাবেই। মাদুরোর উদাহরণ দিয়ে জেলেনেস্কি বলছেন, ইউএসএ একটি কার্যকরী অভিযান চালিয়েছে, যা বিশ্ব দেখেছে। আজ যদি কাদিরভের বিরুদ্ধেও একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে পুতিন হয়তো পরিস্থিতি বুঝে ইউক্রেনে শান্তি চান। তবে এই মন্তব্যের উত্তরে পুতিনের বিশ্বস্ত সমর্থক রমজান কাদিরভ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি টেলিগ্রামে লিখেছেন, ওই ভণ্ডজন মার্কিন সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছে যে তারা আমাকে অপহরণ করুক। দেখে নিন, সে নিজে এই হুমকি দেয়নি, বরং অন্যদের জন্য বলছে। জেলেনেস্কি আসলে বলতে চাইছে, যদি এমন ঘটনা ঘটে, তবে নিজেকে নিরাপদ দূরে রাখতে তিনি শুধু দেখবেন। রমজান কাদিরভ ২০০৭ সাল থেকে চেচেন প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পুতিনের মূল সমর্থকদের একজন। তার শাসনামলে চেচনিয়া বিশ্বে একে বিপজ্জনক অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুইবার চেচনিয়াকে রুশ ফেডারেশন থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু মস্কো তা ব্যর্থ করেছে। তবে এ কাজে অনেক রক্তক্ষয় হয়েছে, যেখানে রুশ ও চেচেন বাহিনী লড়াই করে। কাদিরভ রুশ বাহিনীর পক্ষেই ছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো বহু বছর ধরে তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে। এই সময়ে জেলেনেস্কির এই মন্তব্য এসেছে, যখন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তিক্ততায় তুঙ্গে। বিশেষ করে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত সামরিক অভিযান ও ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের অস্বীকৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।





