রবিবার, ১১ই জানুয়ারি, ২০২৬, ২৭শে পৌষ, ১৪৩২

পোশাক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, রপ্তানি কমছে

বিশ্ব বাজারে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আর ক্রেতাদের ব্যয় সংকোচনের কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে রপ্তানি পরিস্থিতি কিছুটা ভয়াবহ হতে চলেছে, যা দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং শ্রমবাজারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রত্যাশামতো গতিতে বৃদ্ধি পায়নি, বরং প্রথমার্ধে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১৯,৩৬৫ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৬৩ শতাংশ কম।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ধীর গতি বা কমতে থাকা রপ্তানি মূলত বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিতিশীলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রেতাদের ব্যয় সংকোচন ও দাম কমানোর চাপের জন্য। একদিকে দেখা গেছে ইউরোপের বড় বাজারগুলোতে নেতিবাচক প্রবণতা, অন্যদিকে মার্কিন বাজারে রপ্তানি সামান্য হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে রপ্তানি কমেছে, যেমন- জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও বেলজিয়ামে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। তবে কিছু দেশের বাজারে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যেমন- স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ড।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি মোটামুটি মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে, যা বড় বাজারের জন্য সতর্কবার্তা। কানাডা ও যুক্তরাজ্যে রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে, তবে তা মোট পরিস্থিতির ভারসাম্য আনার জন্য যথেষ্ট নয়। বেশ কিছু উন্নত বাজারে ক্রেতারা সংবেদনশীল, তারা অর্ডার দিচ্ছেন, কিন্তু দাম কমানোর জন্য চাপও থাকছে। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অথচ সেই অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে না, যা রপ্তানিকারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সংগঠনগুলো বলছে, এই পরিস্থিতিতে খাতের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির কারণে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের অবস্থা অনেকটাই বিবর্ণ হয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের রপ্তানি কমে গেছে। এই শুল্কের প্রভাবে অপর দেশগুলো, যেমন- ভারত ও চীন, এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নে ঝুঁকছে, যেখানে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। একই সময়ে, ভারত সরকার নতুন ব্যবসায়িক প্যাকেজের মাধ্যমে সহযোগিতাও দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, সরকার আইএমএফের কর্মসূচি এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে আলোচনা করে রপ্তানি খাতের নগদ সহায়তা ও অন্যান্য সুবিধা প্রত্যাহার করেছে, যা রপ্তানিকারকদের জন্য এক ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। সহায়তার মেয়াদ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ায়, এ সব সুবিধার পুনরায় নিশ্চিতকরণের জন্য তারা সরকারের উপর আলাদা নজরদারি রেখেছেন। অন্যথায়, স্পিনিং মিল ও গার্মেন্টস বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা পুরো রপ্তানি sector-এর জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

বিশ্লেষক ও শিল্প নেতারা মনে করছেন, বর্তমানে বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাময়িকভাবে বিকাশে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। তবে, উদ্ভাবনী উদ্যোগ, ডিজিটাল মার্কেটিং, নতুন বাজারে প্রবেশ ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার সম্ভবনাও রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজারে চাহিদা বাড়াতে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা দরকার যাতে বাংলাদেশের রপ্তানি আবার চলমান হতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন