বিতর্কিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে উঠা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের জন্য একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়, যার প্রধান হিসেবে থাকেন বিশিষ্ট উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই কমিশন তাদের তদন্তের ফলাফল এবং সুপারিশসমূহ এখন উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনই ছিল পরিকল্পিত ও সাজানো। এর পিছনে ছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্ণ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত, যাতে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন এবং গোয়েন্দা সংস্থা বিভিন্ন পর্যায়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন উপস্থাপন শেষে বিশ্লেষণমূলক সংবাদ সম্মেলন করা হয়, যেখানে কমিশনের সদস্যরা তাদের সার সংক্ষেপ ও সুপারিশগুলো তুলে ধরেন। এতে প্রকাশ পায়, এই তিন নির্বাচনে বিশাল পরিমাণ অনিয়ম ও কারচুপি ঘটে, তবে তদন্তে তাদের সঠিক অংশগ্রহণের বিস্তারিত নাম ও ভূমিকা নির্ধারণ সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনকেও কমিশন সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও বাকিগুলোতে প্রায় অপ্রত্যাশিতভাবে নির্বাচনের ফলাফল এনেছে দলীয় স্বজনপ্রিয়তা ও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা। সেই সময় নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়, যার জের ধরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্তর বাড়ানোর জন্য নানা চেষ্টা চালানো হয়। তবে বরাদ্দকৃত সময় ও সম্পদের অভাবে তদন্তের সীমাবদ্ধতা থাকলেও, বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভূমিকা স্পষ্ট নয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশেষভাবে সাজানো এই নির্বাচনগুলো ছিল মূলত ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থে, যেখানে কিছু কেন্দ্রে রাতের বেলায় ভোটের সিল মেরে বিজয় নিশ্চিত করা হয়। নিখুঁতপ্রণালীতে ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে নির্বাচন পরিচালনার কার্যক্রম মূলত প্রশাসনের হাতে চলে আসে, যেখানে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পাশাপাশি, গত জুন মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এই কমিশন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ ছিল। পরে সময় বাড়ানো হয়। এই তিনটি নির্বাচন, যেগুলোর বিষয়ে দেশের ও দেশের বাইরে ব্যাপক সমালোচনা ও অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মাধ্যমে জনমানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক মর্যাদা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সংবিধানে থাকবে বিভিন্ন বাধ্যবাধকতাাপকথা লঙ্ঘন হয়েছেও, যা দেশের আইনী ও মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য ক্ষতিকর। এসব নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশটির গণতন্ত্রী কাঠামো ও শাসনব্যবস্থার উপর একটি গভীর ছায়া পড়েছে।
