বুধবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬, ৭ই মাঘ, ১৪৩২

উত্তরাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: অস্বাভাবিক আবহাওয়া এবং উদ্বেগজনক পরিবর্তন

চলমান শীত মৌসুমে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উত্তরাঞ্চলে সাধারণের চেয়ে অস্বাভাবিক আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় সকালে হঠাৎ করে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, আবার দুপুরে একই তাপমাত্রা আবার বেড়ে যায়, যা সাধারণ জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ১৭ জানুয়ারি শনিবার অঞ্চলটিতে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল ৯ থেকে ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৫ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। विशेषज्ञরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে চলে যাচ্ছে এবং উজানের একতরফাভাবে নদীর পানি প্রত্যাহার করায় আবহাওয়ার ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে; এর চূড়ান্ত প্রভাব এখনো অজানা। বিশিষ্ট কৃষিবিদ ড. এম এ মাজিদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অদ্ভুত আবহাওয়া চলমান থাকছে, যা কৃষি ও অন্যান্য খাতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে বছরের পর বছর ধরে তাপমাত্রার গড় পরিবর্তন হচ্ছে, যা শীত বা গ্রীষ্মের তীব্রতা বাড়াচ্ছে। নদীগুলোর অবস্থা খারাপ হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানি কমে যাচ্ছে, যারা জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদি আগের মতো নদীগুলোর অব্যাহত পানি প্রবাহ চালু থাকত ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর না কমত, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো বলে মনে করেন গবেষকরা। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের জন্য এই সময়ে বন্যা, খরা এবং লবণাক্ততা-সহিষ্ণু ফসলের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ দরকার। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, যমুনা, করতোয়া, আত্রাই, যমুনেশ্বরী, পুনর্ভবা ও অন্যান্য প্রধান নদীর জল অব্যাহতভাবে উজানে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করা হচ্ছে, যার ফলে নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, তলদেশ পলি জমে ভরে যাচ্ছে। হাএিজ মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ মো. মামুনুর রশিদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরুপ প্রভাব ইতোমধ্যে কৃষি, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরণ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, তীব্র তাপ ও শীতের পার্থক্য আরও বাড়ছে, পানি ও মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নদীর অবস্থা খারাপ হচ্ছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, উত্তরাঞ্চলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভোর থেকে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল ৭ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে, তবে দুপুরে সূর্যের দেখা মিললে আবহাওয়ার উন্নতি হয় এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে ২২ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। সম্প্রতি ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার উত্তরাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে এবং পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন