, ,

কানাডা থেকে আনা হবে ২ কোটি ৭১ লাখ লিটার সয়াবিন তেল

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট এড়ানোর জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডা থেকে ২ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে নেওয়া হয়। বৈঠকে অর্থাৎ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত থেকে সভাপতিত্ব করেন।

সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাময়িকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) তেল সংগ্রহ করা হবে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গুদামের কাছে এই তেল পৌঁছে দেওয়ার জন্য সব ধরনের খরচ অন্তর্ভুক্ত করে প্রতিটা লিটার লেভাবে দাম নির্ধারিত হয়েছে ১৬৩ টাকা ৬ পয়সা।

বৈঠকসূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিপিএম পদ্ধতিতে এই পরিমাণ তেল কেনার প্রস্তাব উপস্থাপন করলে কমিটি তা অনুমোদন দেয়। কর্মকর্তাদের মতে, বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করা হয়, যেখানে কানাডার এনএসআরআইসি গ্রিন সাপ্লাইস ইনকরপোরেটেড (উৎস: ব্রাজিল) এই প্রস্তাব পাঠায়। এর পর মূল্যায়ন করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি, এরপর বৈঠকে তেলের মূল্য নির্ধারণ করে। সবশেষে, ৩৫৭ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার টাকায় এই পরিমাণ তেল সরাসরি ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিশোধিত সয়াবিন তেল দুই লিটারের বোতলে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রতি লিটার মূল্য ধার্য করা হয়েছে ১৩১ টাকা ৪৯ পয়সা। অন্যান্য খরচ ধরা হয়েছে ১৬৩ টাকা ৬ পয়সা। এই দামে বিক্রি হলে বর্তমানে সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম এবং বাজারে পাওয়ায় সুবিধা হবে। এতে সরকারের কোনো ভর্তুকির প্রয়োজন পড়বে না।

এর আগে, জানুয়ারির শুরুতে, রমজানের আগে বাজারে সংকট রোধে ওই সময়ের জন্য সরকার ওই একই পদ্ধতিতে থাইল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার তেল কিনতে অনুমোদন দেয়। সেই সময় প্রাইম কর্প ওয়ার্ল্ড কোম্পানি লিমিটেড এই তেল সরবরাহের দায়িত্বে ছিল। তেল সংগ্রহের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১৭৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৭ টাকা। সেই সময়ের জন্য প্রতিলিটার দাম নির্ধারিত হয় ১৩১ টাকা ৪৭ পয়সা, এবং গুদাম পর্যন্ত এই খরচ ধরা হয় ১৬২ টাকা ৬৩ পয়সা।

পোস্টটি শেয়ার করুন