আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে গিয়ে খেলতে বাংলাদেশের অনীহা প্রকাশের
পরিপ্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ
আজহারউদ্দিন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশ যদি ভারত সফরে না আসার
সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এর দায় দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপানো কোনোভাবেই সমীচীন
হবে না।
শনিবার সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই
ধরনের নেতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে মূলত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবং তাদের খেলোয়াড়রাই বড়
ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
আজহারউদ্দিন ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে বলেন যে, বর্তমানে দেশটিতে
নিয়মিতভাবে একাধিক আন্তর্জাতিক সিরিজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং কোনো দলই এ নিয়ে প্রশ্ন
তোলেনি। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ভারতে একাধিক আন্তর্জাতিক সিরিজ চলছে।
কোনো দলই নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ করেনি। বাংলাদেশ যদি না আসে, তাহলে সেটি তাদেরই
ক্ষতি এবং তাদের খেলোয়াড়দেরও ক্ষতি হবে।’ ৬২ বছর বয়সী এই তারকা ক্রিকেটার আরও দাবি
করেন যে, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় দলগুলো সম্প্রতি ভারতে কোনো ধরনের
প্রতিকূলতা ছাড়াই খেলে গেছে, যা প্রমাণ করে দেশটি সফরকারী দলগুলোর জন্য সম্পূর্ণ
নিরাপদ।
ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে দাবি তোলা হয়েছে,
সে প্রসঙ্গে আজহারউদ্দিন জানান যে বিষয়টি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের
(আইসিসি) এখতিয়ারভুক্ত। তবে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন যে অত্যন্ত জটিল
প্রক্রিয়া, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁর ভাষায় বলেন, ‘বিশ্বকাপের ম্যাচ এভাবে এক দেশ
থেকে আরেক দেশে সরানো সহজ নয়। সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে, তাই এখন ম্যাচ
স্থানান্তর করা খুবই কঠিন।’
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) খেলোয়াড়দের সাথে বিস্তারিত আলোচনার পর
আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মূলত নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণেই তারা ভারতের
বাইরে ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে আইসিসি এখন পর্যন্ত তাদের পূর্বনির্ধারিত
সূচি পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি বরং তারা নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। এই উদ্ভূত
পরিস্থিতিতে ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে, যা যেকোনো
সময় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হতে পারে।





