ভোরের আলো ফুটতেই চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে শুরু হলো বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক ঢল। রোববার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল থেকেই মিছিল, স্লোগান ও উল্লাসে মুখরিত হয় সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা। দীর্ঘ দু দশকের অধিক অপেক্ষার পর অবশেষে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন ও এই মহাসমাবেশের জন্য নেতাকর্মীরা ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখাচ্ছেন। নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত রঙিন ব্যানার, ফেস্টুনে ভরে গেছে, যা মানুষের উদ্দীপনা আর সমর্থনের প্রমাণ দেয়।
সকাল থেকেই মাঠের প্রবেশপথগুলোতে নেতাকর্মীদের উপচে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। অনেকে দলবেঁধে মিছিল করে আসছেন, আবার অনেকেই আগেই রাত থেকেই মাঠে অবস্থান নিয়ে রয়েছেন। কথা বলতে গিয়ে এক কর্মী বলছেন, দীর্ঘদিন পর নেতা তারেক রহমানের কাছাকাছি থাকার জন্য তারা ভোরে ভোরে এসে উপস্থিত হয়েছেন। নিরাপত্তার জন্য মাঠ ও এর আশপাশে ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যা এ কেবলই বোঝাচ্ছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজন।
অতীতের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে পৌঁছান বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে রাত সাড়ে ৭টায় তিনি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তারপর তিনি সরাসরি নগরীর পাঁচতারা রেডিসন ব্লু হোটেলে যান ও সেখানেই রাত শেষে থাকেন। উল্লেখ্য, তার শেষ চট্টগ্রাম সফর ছিল ২০০৫ সালে, তখন তিনি লালদিঘী মাঠে বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।
সূত্র জানায়, আজকের কর্মসূচি অত্যন্ত ব্যস্ত। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘পলিসি ডায়ালগ’ সারাবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ডের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। শেষ করে তিনি ফেরার পথে সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন ও ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পথসভায় অংশ নেবেন এ নিয়ে জানা গেছে।
মহাসমাবেশের নিরাপত্তা নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। পুরো সমাবেশস্থলটি রেড, ইয়েলো ও গ্রিন—এই তিন স্তরের নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়েছে। মঞ্চের আশপাশের এলাকাগুলো রেড জোনে বিনির্মিত যেখানে শুধুমাত্র বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের প্রবেশإ্রথমে। ইয়েলো জোনে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা এলাকা রাখা হয়েছে, আর পুরো মাঠটি সাধারণ সমর্থকদের জন্য নির্ধারিত গ্রিন জোনে। এর মধ্য দিয়ে নিরাপত্তার পাশাপাশি আয়োজনের গুরুত্ব ও গুরুত্ব বোঝানো হয়।





