বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬, ১৫ই মাঘ, ১৪৩২

গভর্নর বললেন, দেশের জন্য ১০-১৫টি ব্যাংকই যথেষ্ট

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং খাতের বৃদ্ধির মধ্যে নিয়ন্ত্রণ আনতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে দুইটির মধ্যে নিয়ে আসার চিন্তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পাশাপাশি বাকি ব্যাংকগুলোকে একীভূত বা মার্জ করার চেষ্টা চলছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো পরিচালনায় জটিলতা কমবে, প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাস পাববে, এবং ফলস্বরূপ ব্যাংকের লাভজনকতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এ কথা বলেন। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংক খাতে গভর্নেন্সের বিভ্রাট এবং চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের অভাবের কারণে দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার মতো অর্থ পাচার হয়েছে। অবৈধভাবে ব্যক্তি ও সরকারের নির্দেশে ঋণ দেওয়ার ফলে ব্যাংকের কার্যক্রমে আঘাত হানা হয়েছে এবং স্বচ্ছতা হারিয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—গভর্নেন্সের ব্যর্থতা। সরকার ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের নির্দেশে ব্যাংকগুলোতে ঋণ বিতরণ হয়, যার পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অবহেলা রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকের অবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, মালিকানা ব্যক্তিরাত্মক নিয়ন্ত্রণে ছিল। ইসলামি ব্যাংকগুলোর পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার সময়ও এসব ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ ছিল। উৎসাহের অভাবে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও রক্ষাকবচ ব্যবস্থা না থাকায় দেশের কোটি কোটি অর্থ পাচার হয়েছে।

গভর্নর বলেন, পৃথিবীর চারটি অর্থনৈতিক খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও, বাংলাদেশে এটি প্রথম। এর ফলে অন্যান্য আর্থিক খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখন সময় এসেছে এই অবস্থা ফিরিয়ে আনতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, উপমহাদেশের সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকের আয় বাংলাদেশের সমস্ত ব্যাংকের সম্মিলিত আয়ের সমান।

প্রতিষ্ঠানটির জন্য বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম আগের দিন ব্যাংকিং খাতের ধ্বংসাবশেষ থেকে বর্তমান গভর্নর পরিস্থিতি উন্নত করেছেন বলে প্রশংসা করেন। তিনি ভবিষ্যতেও ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে আশাবাদী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন