বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬, ১৫ই মাঘ, ১৪৩২

ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর মাধ্যমে ভাড়া ও সময়ে সুবিধা

এক দশকেরও বেশি সময় পরে আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট ঢাকা থেকে করাচির জন্য। এই উদ্যোগের ফলে যাত্রীদের সময় এবং ভাড়া ব্যাপকভাবে কমবে, যার ফলে তাদের প্রায় ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।

নতুন এই রুটে একমুখী টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কমপক্ষে ৩০ হাজার ৮৯৯ টাকা। এর সাথে রাউন্ড ট্রিপের টিকিটের দাম শুরু হবে ৫৬ হাজার ৯০৩ টাকায়। বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এতদিনের ট্রানজিট ভিত্তিক ভাড়া তুলনায় এই সাশ্রয় অনেক বেশি।

বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি বলছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রস্থলে ইকোনমি ক্লাসে ফিরতি টিকিটের দাম ৮৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে পড়ছে। এভাবে ভাড়া বাড়ার কারণ হলো ইতিমধ্যে আসন সংকট, বিদেশি এয়ারলাইন্সের ওপর নির্ভরতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি।

ইনোগ্লোব ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলের সিইও ও ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) পরিচালক মো. তসলিম আমিন বলেন, পাকিস্তানে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় আগে যাত্রীদের অনেক সময় এবং অর্থ খরচ করে দোয়াত, দোহার বা শারজার মতো শহরগুলো দিয়ে ট্রানজিট করতে হতো। এতে সময় বেশি লাগে এবং ব্যয় বাড়ে। এখন সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে এই বিপর্যয় অনেকটা কমবে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, সাধারণত ঢাকা থেকে করাচি সরাসরি ফ্লাইটে সময় লাগে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা। কিন্তু বর্তমানে গড়ে সাড়ে আট ঘণ্টা থেকে ১৩ ঘণ্টা সময় লাগছে, কখনো কখনো ট্রানজিটের কারণে ২০ ঘণ্টার বেশি সময় পর্যন্ত লেগে যায়।

ট্রাভেল এজেন্টদের অভিমত, এই সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে, এবং ভবিষ্যতে অন্য এয়ারলাইন্স যদি এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে, তাহলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এর ফলে ভাড়া নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং খরচ কমবে।

বিমানের পক্ষ থেকে জানা গেছে, ঢাকা-করাচি রুটটি প্রাথমিকভাবে ‘কৌশলগত পর্যবেক্ষণ’ হিসেবে পরিচালিত হবে। চলতি ফ্লাইটগুলো আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ট্রায়াল পর্যায়ে চালু থাকবে।

বিমানের বিপণন ও বিক্রয় বিভাগের পরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, ‘প্রথম ফ্লাইটের ৮০ শতাংশের বেশি টিকিট ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে এবং প্রশংসা পাচ্ছে।’

পরীক্ষামূলক এই দুই মাসের সময়ে যাত্রী চাহিদা, লোড ফ্যাক্টর এবং মোট বাণিজ্যিক পারফরম্যান্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর ভিত্তিতে রুটটি স্থায়ী করা হবে কি না এবং ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে কি না, এ সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সর্বশেষ ২০১২ সালে বিমান এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল। তবে, তখন যাত্রী সংকট ও অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধনের কারণে সে সময় এই সেবা বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবেদকেরা জানাচ্ছেন, আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন সতর্কভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, সপ্তাহে দুই দিন— বৃহস্পতিবার ও শনিবার—ফ্লাইট চলবে। ঢাকা থেকে রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময়) ফ্লাইটের शुरुआत হবে, যা করাচিতে রাত ১১টায় পৌঁছাবে। করাচি থেকে রাত ১২টায় ফ্লাইট ছেড়ে পরের দিন ভোর ৪:২০-তে ঢাকায় পৌঁছাবে।

বিমান পরিবর্তন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার বুশরা ইসলাম বলছেন, ‘যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনা করে এই সময়সূচি ঠিক করা হয়েছে, যাতে ট্রানজিট ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো যায়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই সরাসরি সংযোগ নির্ধারিত হবে পর্যটন ও ব্যবসায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।’

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমান সংস্থা পারস্পरिक আলোচনা ও কূটনৈতিক চুক্তির পরে এই রুটে ফ্লাইট চালু অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে। এই রুটে চামড়া রপ্তানি, কৃষি বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি পরিবার, ধর্মীয় ও চিকিৎসা ভ্রমণ সহজতর হবে, যা আগে উচ্চ ভাড়া ও দীর্ঘ যাত্রার কারণে সীমিত ছিল।

পোস্টটি শেয়ার করুন