মঙ্গলবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬, ১৩ই মাঘ, ১৪৩২

কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান হলেও গণতন্ত্রের লড়াই এখনও চলমান: সুজন সম্পাদক

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হলেও বাস্তবে এখনও সম্পূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে সিলেটে অনুষ্ঠিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্রসংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ড. বদিউল আলম বলেন, “ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও, গণতন্ত্রকে সুসংহত ও দীর্ঘস্থায়ী করতে এখনো লড়াই চলমান। তিনি আরও গুরুত্বারোপ করেন যে, গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা একলা যথেষ্ট নয়। গণতন্ত্রকে স্থায়ী ও প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত ব্যাপক সংস্কার অপরিহার্য।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান, নির্বাচন ব্যবস্থার পরিশোধন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার, এবং একটি সমতা ও ন্যায়বিচার ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা। সুজনের সম্পাদক বিশেষ করে যোগ করেন, “বর্তমানে দেশের নির্বাচনী এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিদ্যমান কালো টাকা, দুর্বৃত্তায়ন এবং ক্ষমতার অতি-কেন্দ্রীকরণ গণতন্ত্রের জন্য বড় বাধা। অতীতের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে প্রমাণিত, যে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিমেয়।”

সংলাপে ড. বদিউল আলম রাজনীতিক দলগুলোর নিজস্ব গণতন্ত্র চর্চা ও নির্বাচন কমিশনকে যথাসাধ্য স্বাধীন ও দায়িত্বশীল করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি নাগরিক সমাজকে তোষামোদি छोड़ করে সতর্ক ও সচেতন প্রহরীর ভূমিকা পালনের গুরুত্বও তুলে ধরেন। সিলেট জেলা সুজনের সভাপতি শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় এই সংলাপে বিভিন্ন জেলা থেকে সুজন নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে গণতন্ত্রের উন্নয়ন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন