গাজায় চলমান সংঘর্ষে ইসরায়েল একের পর এক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে অন্তত ১৩০০ বার ইসরায়েল এই বিরতিকে ভঙ্গ করেছে। এর মধ্যে ৪৩০ বার বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে এবং আরও ৬০০ বার বেশি বোমা ও গোলাবর্ষণ হয়েছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অন্তত ৬৬ বার ইসরায়েলি বাহিনী ইয়েলো লাইন সিরিজের বাইরে অবস্থিত আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। এই সময়ে তারা ২০০টির বেশি বাড়ি ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি গত এক মাসে গাজা থেকে কমপক্ষে ৫০ জন ফিলিস্তিনি গ্রেফতার করা হয়েছে। ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংসের কাজে লিপ্ত রয়েছে।
বর্তমানে চলমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বনেতারা গাজায় আরও বেশি মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য বিভিন্ন পত্রে বা বৈঠকে আহ্বান জানিয়েছেন। গাজা দীর্ঘ দিন থেকে অবরুদ্ধ থাকায় সেখানে চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাদ্য ও জরুরি সেবার ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল। তবে ইসরায়েল দাবি করছে, তারা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সীমিতভাবে রাফাহ ক্রসিং খুলবে, যেখানে শুধুমাত্র পথচারীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এই শর্ত তখনই কার্যকর হবে যখন ফিলিস্তিনে আটকা পড়া ইসরায়েলি জিম্মিরা প্রত্যাহার করা সম্ভব হবে।
গত বছরের অক্টোবরের পরে ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব অনুযায়ী, রাফাহ সীমান্ত দিয়ে মানবিক সহায়তা ও ইসরায়েলি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে চলতি পরিস্থিতিতে, এই সীমান্ত অনেক সময় বন্ধ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতেরা জেরুজালেমে অবস্থানকালে রাফাহ খুলে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উপর চাপ দিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনও এই পথের পুনরুদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দপ্তর বলেছে, এই সীমিত খুলে দেওয়া হবে শুধুমাত্র তখনই যখন সব জীবিত জিম্মি ফিরে পাবার পাশাপাশি হামাস তাদের সকল নিহতের মরদেহ ফেরত দেবে। তবে টেলিভিশন বা অন্য মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে, চিকিৎসার জন্য গাজা থেকে রোগীদের অন্য দেশে যাওয়ারও অনুমতি মিলবে কি না।
উল্লেখ্য, গত রোববার ইসরায়েলি সেনারা গাজার কবরস্থানে শেষ জিম্মি র্যান গিভলির মরদেহ খুঁজতে অভিযান চালিয়েছে। নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে, এই অভিযান শেষ হলে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হলে রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খোলা হবে। এর আগে, গাজার নতুন প্রশাসক আলি শাথ ঘোষণা করেন, চলতি সপ্তাহে এই সীমান্ত দ্বিপাক্ষিকভাবে খুলে দেওয়া হবে।
আলি শাথ আরও জানান, রাফাহ শুধুই একটি গেট নয়, এটি গাজার মানুষের জন্য জীবনরেখা ও আশা-আশীর্বাদের প্রতীক। আন্তর্জাতিক মহলও বারবার গাজায় আরও মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানাচ্ছে। এটি দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ গাজায় চিকিৎসা, খাদ্য ও জরুরি সামগ্রী সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ও পরিস্থিতির কিছুটা স্বস্তি আনতে গুরুত্বপূর্ণ।
অবশেষে, নেতানিয়াহু বলেন, সম্পূর্ণ প্রস্তুতি ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে। তবে, এই সিদ্ধান্ত তখনই কার্যকর হবে যখন সব জিম্মি ফিরে আসবে এবং হামাস তাদের সমস্ত নিহতের মরদেহ ফেরত দেবে। এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে যে, চিকিৎসা বা অন্য জরুরি প্রয়োজনের জন্য গাজা থেকে রোগীদের অন্য দেশে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি মিলবে কি না। এই পরিস্থিতিতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর একটি সংযুক্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।





