বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬, ১৫ই মাঘ, ১৪৩২

সিএসই দ্রুত সময়ের মধ্যে কমোডিটি মার্কেট চালুর পথে

দেশের পুঁজিবাজারে পণ্য কেনাবেচার জন্য নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম বা কমোডিটি মার্কেট চালুর প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জ (সিএসই) এই বাজার চালুর যাবতীয় প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ও প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরি শেষের দিকে পৌঁছেছে। এখন শুধু বাজারসংশ্লিষ্ট সবাইকে সক্রীয় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে এবং একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এর আগে রাজধানীর কাওরান বাজারে এনএলআই সিকিউরিটিজের অফিসে আয়োজিত ‘কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট: এ নিউ ফ্রন্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম সাইফুর রহমান মজুমদার এই অগ্রগতি তুলে ধরেন। ক্যাপিটাল মার্কেট সিইও ফোরাম ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি যৌথভাবে এই সেমিনার আয়োজন করে।

সেমিনারে এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘কমোডিটি মার্কেটের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত টেকনোলজিক্যাল কাঠামো স্থাপন করা এবং ট্রেডিং সিস্টেম আপডেট করা। নতুন এই কাঠামোয় বর্তমানে চলে আসা ইকুইটি মার্কেট, ডেরিভেটিভস মার্কেট ও ইকুইটি ডেরিভেটিভস মার্কেটের সংযোগ ঘটানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটি সফল কমোডিটি মার্কেট গড়ে তোলার জন্য তিনটি স্তর প্রয়োজন—রেগুলেটরি, টেকনোলজিক্যাল এবং ইকোসিস্টেম। সিএসই ইতোমধ্যে প্রথম দুটি স্তরে কাজ সম্পন্ন করেছে এবং এখন ইকোসিস্টেম তৈরির কাজ চলমান। সবাই সহযোগিতা দিলে খুব শিগগির এ বাজার চালু সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ইকুইটি মার্কেট এখনো পুরোপুরি পরিপূর্ণ নয়। বিশ্ববাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট লেনদেনের বড় অংশই হয় ডেরিভেটিভস মার্কেটে। এতে আমাদের বাজারের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। যত দ্রুত কমোডিটি মার্কেট চালু হবে, দেশের অর্থনীতিতে তার সুফল দ্রুত যাবে।’

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ক্যাপিটাল মার্কেট সিইও ফোরামের ডিরেক্টর মো. আলী বলেন, ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য বা প্রোডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন অনেকটাই কম। নতুন নতুন পণ্যের সফল সূচনার জন্য সিইও ফোরাম কাজ করে যাবে।’

ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন উল্লেখ করেন, কমোডিটি মার্কেট চালু হলে দেশের অর্থনীতির অগ্রগামী অগ্রযাত্রায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, সিইও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস এই মার্কেটের স্বচ্ছতা ও আধুনিক সেবার প্রশংসা করে বলেন, ‘কমোডিটি মার্কেট চালু হলে বাজার আরও প্রাণবন্ত ও গতিশীল হবে।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসইর এজিএম ও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রজেক্টের মেম্বার সেক্রেটারি ফয়সাল হুদা। সভায় বিভিন্ন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন