বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬, ১৫ই মাঘ, ১৪৩২

কারাগারে মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কারা প্রশাসনের জন্য নিরাপত্তা কোনোভাবেই মানবাধিকার থেকে আলাদা হতে পারে না। কারাগারে বন্দিদের মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণ করে তাদের সংশোধিত নাগরিক হিসেবে সমাজে ফেরানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রের উপরই। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা ক্যাম্পাসে অবস্থিত কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, মানবিক আচরণ, ন্যায্য সুবিধা প্রদান, বৈষম্যহীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা কেবল আইনি দায়িত্বই নয়, এটি আমাদের নৈতিক কর্তব্য। কারাগারে বন্দিদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করা আমাদের অবশ্যই করতে হবে, আর এ কাজটা সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশিক্ষিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন কারারক্ষীদের ভূমিকা অবর্ণনীয়।

উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, কারাগার অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এটি ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি অপরিহার্য অংশ। কারাগার বন্দিদের নিরাপদে রাখা, অপরাধ দমন, সংশোধন ও সমাজে পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কারা প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতামূলক কারা প্রশাসন গঠনে কারারক্ষীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

দেশপ্রেমের মহান দায়িত্ব স্মরণ করে, নতুন প্রশিক্ষণার্থীরা সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এই কাজ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটি শুধুই অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে দেয় এবং জনগণের সাধারণ আস্থা নষ্ট করে।

তিনি বলে যান, যদি কারা সদস্যরা ব্যক্তিগত স্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কাজ করে, তাহলে তারা শুধু আইন ভঙ্গ করে না, বরং রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেয়। কারাগারে থাকা কোনো সদস্য বা কর্মকর্তাই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়— তারা দেশের সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তাই জনকল্যাণই তাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে বিশেষ পারদর্শিতার জন্য সেরা মহিলা কারারক্ষীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠান চলাকালে মহিলা কারারক্ষীরা বিভিন্ন শারীরিক কসরত ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন