বলিউডে অভিনয়ের দীর্ঘ তিন দশক পূর্ণ করার মাহেন্দ্রক্ষণে ‘মর্দানি ৩’ চলচ্চিত্রের
মাধ্যমে বড় পর্দায় শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানী মুখার্জি।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) শিবানী শিবাজি রায়ের তেজস্বী চরিত্রে প্রায় তিন বছর পর
দর্শকদের সামনে হাজির হয়ে তিনি তাঁর সুদীর্ঘ ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবনের গভীর
অনুভূতি এবং অগণিত না-বলা অভিজ্ঞতার কথা অকপটে ভাগ করে নিয়েছেন। এই বিশেষ মুহূর্তটি
উদ্যাপনের লক্ষ্যে মুম্বাইয়ের যশ রাজ ফিল্মস স্টুডিওতে পরিচালক করণ জোহরের সঙ্গে
এক বিশেষ আড্ডায় অংশ নেন তিনি। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে কেক কেটে তাঁর ৩০ বছরের
বর্ণাঢ্য পথচলা উদ্যাপন করা হয়। ১৯৯৬ সালে ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’ ছবির মাধ্যমে
চলচ্চিত্রে অভিষেকের স্মৃতি হাতড়ে রানী জানান যে, শুরুর দিকে তিনি অনুধাবন করতে
পারেননি এই যাত্রা কতটা দীর্ঘ হবে; মূলত মায়ের ইচ্ছাতেই অভিনয়ে পা রেখে নিজের
সর্বোচ্চটা দেওয়ার প্রচেষ্টাই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।
ক্যারিয়ারের সাফল্যের নেপথ্যে আদিত্য চোপড়া, করণ জোহর, শাহরুখ খান ও আমির খানের মতো
ব্যক্তিত্বদের অবিচল আস্থার কথা রানী কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। আলাপচারিতায় করণ
জোহর জানান, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবিতে টিনা চরিত্রের জন্য রানীর নাম প্রস্তাব
করেছিলেন আদিত্য চোপড়া নিজেই, যা তাঁর ক্যারিয়ারে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছিল।
নিজের উল্লেখযোগ্য কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে রানী ‘ব্ল্যাক’ ছবিকে ‘লাইভ অ্যাক্টিং
স্কুল’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে সঞ্জয় লীলা বানসালির পরিচালনায়
কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে সমৃদ্ধ করেছে বলে জানান। পাশাপাশি ‘সাথিয়া’
ছবির বাস্তবসম্মত লোকেশন ও সিঙ্ক সাউন্ড ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও তাঁর অভিনয়ে নতুন
মাত্রা যোগ করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিচারণায় স্বামী আদিত্য চোপড়ার বিনয়ী ও সাধারণ জীবনযাপনকে
তাঁদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন রানী। আড্ডার এক পর্যায়ে করণ জোহর
তাঁদের মাত্র ১৮ জন অতিথির উপস্থিতিতে হওয়া সেই অত্যন্ত গোপন বিয়ের রোমাঞ্চকর ও
চাপের স্মৃতিগুলো তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন রানীর
কন্যা আদিরার লেখা একটি বিশেষ চিঠি পড়ে শোনানো হয়, যা শুনে এই অভিনেত্রী অশ্রুসিক্ত
হয়ে পড়েন। তিন দশকের সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পরও বর্তমান সময়কে এক ধরনের
‘পুনর্জন্ম’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে রানী মুখার্জি মন্তব্য করেন যে, মনে হচ্ছে
‘মর্দানি ৩’-ই তার প্রথম ছবি। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার সঙ্গে নিয়েও নতুন প্রতিটি
কাজকে তিনি সমান গুরুত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত বলে তাঁর
বক্তব্যে উঠে আসে।





