আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি কোনও ধরনের মারণাস্ত্র বা ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় সুইমিং কমপ্লক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমানা সতর্কতার সাথে সুরক্ষিত রেখেই নির্বাচনকালীন দায়িত্বে মোতায়েন করা হচ্ছে সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিজিবির প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ঢাকা সেক্টরের অধীনে ৯টি জেলা ও ৪টি সিটি করপোরেশনের ৫১টি আসনে মোট ১৩৪টি প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন পরিচালনায় বিভিন্ন পরিবেশ সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে ৪২টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এই ensuresেভাবে ভোটাররা নিজেদের স্বাভাবিক ভাবেই ভোট দিতে পারেন, আর সব প্রার্থী জন্যেই এক সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে বিজিবি। পাশাপাশি, নির্বাচনী তল্লাশি ও মনিটরিংয়ে বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড সক্রিয় থাকবে।
বিজিবি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারেও গুরুত্ব দিয়েছে। কর্নেল এস এম আবুল এহসান জানান, দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যরা বডি ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল ডিটেক্টর ও আধুনিক যোগাযোগ সরঞ্জাম ব্যবহার করবেন। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। বিজিবি মূলত মোবাইল ও স্ট্যাটিক টহল পরিচালনা করবে, এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাবে, যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা নাশকতা ঘটাতে না পারে।
অকস্মিক বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম, কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং হেলিকপ্টার ইউনিট সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি বা অস্থিরতা দেখা দিলে, তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা রাখে। সেক্টর কমান্ডার স্পষ্ট করে বলেন, সাধারণত নির্বাচনী পরিবেশ মোটেও উদ্বেগজনক নয় এবং বিজিবি মারণাস্ত্র ব্যবহার না করার নির্দেশনা তাদের মহাপরিচালকের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে বিজিবির সমন্বয় থাকবে বলে জানানো হয়। প্রতিটি বেইজ ক্যাম্পের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া হয়েছে যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়। এছাড়াও, নির্বাচন কমিশনের ‘সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য বিনিময় চালু রয়েছে। বিজিবি আশাবাদী, তারা সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে জনগণের আস্থা ও সমর্থন নিয়ে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন সম্পন্ন করবে। মূলত, একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে তারা তাদের পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।





