বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার পেক্ষাপটে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা যুক্তরাজ্যের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি শুক্রবার সাংহাই সফরে গিয়ে বিবিসিকে দিতে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা বা দূরত্ব সৃষ্টি করা হবে এক ধরনের বড় ভুল। আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে উদ্ভূত প্রভাব সরাসরি দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে- এমন মন্তব্য করে তিনি আরও জানান, বিশ্বমঞ্চে চীনের সঙ্গে সক্রিয় থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনবিরোধী কঠোর অবস্থান ও বাণিজ্য বিষয়ে হুঁশিয়ারির প্রতিক্রিয়ায় স্টারমার এই মন্তব্য করেছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে ব্যবসা করাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। এর জবাবে কিয়ার স্টারমার জানান, চীন সফরের আগে তাদের নিজস্ব প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ট্রাম্পের টিম এ ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। তিনি আরও বলেন যে, ট্রাম্প নিজেও অচিরেই চীনে একটি সফরে আসার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে হলে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমন্বয় চালিয়ে যেতে হবে। এই সফরটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ আট বছর পর হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের শীতলতা কাটিয়ে একটি উষ্ণতা ফেরানোর সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অপর দিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তভাবে সমর্থন করেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার পিসারিদিস। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কিয়ার স্টারমার যা করছেন, তা আদর্শিক ও ভবিষ্যৎদর্শী সিদ্ধান্ত। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বর্তমান মার্কিন নীতিগুলোর কারণে বিশ্বের তিনটি বড় শক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া—মিলে বিভক্ত হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য খুবই ক্ষতিকর। তিনি আরও বলেন, লন্ডনে নতুন চীনা দূতাবাস নির্মাণের অনুমোদনও এই সম্পর্কের অগ্রগতির একটি ইতিবাচক দিক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে আরও নিবিড় সহযোগিতা জরুরি। কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে বলেছেন, কেবল আদর্শ্যের ভিত্তিতে একটি বড় অর্থনৈতিক শক্তিকে এড়িয়ে যাওয়া কোনো কার্যকর সমাধান নয়, বরং বাণিজ্যিক স্বার্থ ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়ানোই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও চীনবিরোধী মনোভাবের মাঝেও, স্টারমারের এই সাহসী চীন সফর লন্ডনের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূলত, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকার বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের পথ নিচ্ছে।





