মঙ্গলবার, ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২০শে মাঘ, ১৪৩২

সরকারি চাকরিজীবীদের পে স্কেলের দাবিতে ৩ দিনব্যাপী কর্মসূচি

সরকারি চাকরিজীবীরা পে স্কেল প্রসঙ্গে প্রকাশের দাবিতে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এই সময়ে সকালে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নিজেদের দপ্তরের সামনে দুই ঘণ্টা অবস্থান, বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করবেন চাকরিজীবীরা। যদি এই সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হয়, তাহলে ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে ‘ভূখা মিছিল’ করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

প্রথমে, ৩০ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি প্রতিবাদ সমাবেশে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। ওই সমাবেশে, তারা ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং জ্বালানি উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবি জানান। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ডেপুটেশনে দ্রুত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও তা ১ জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, গত ৭ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরও সরকার আমাদের দাবি মানছে না। আশা ছিল ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হবে, তবে তা হয়নি। এরপর, ২১ জানুয়ারি কমিশনের রিপোর্টের পরেও গেজেট প্রকাশের জন্য সরকার গোপন চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি, জ্বালানি উপদেষ্টার এক মন্তব্যে সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে অস্বীকার করেছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁরা বলেন, কর্মচারীরা জিবিকার সংকটে জীবন অতিবাহিত করছেন, অতএব অবিলম্বে বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে ৩৫,০০০ টাকা থেকে ১,৪০,০০০ টাকার মধ্যে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারণ এবং ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারি করতে হবে। এছাড়া, ২০১৫ সালে হরণকৃত তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা, পেনশন চালু, গ্রাচুইট ৯০% থেকে বাড়িয়ে ১০০% করা, উচ্চতর গ্রেড প্রদান, চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা, উন্নয়ন প্রকল্পের চাকরির মেয়াদ গণনা, রেশন পদ্ধতি চালু এবং সব দপ্তরে এক নিয়মে নিয়োগ বিধি প্রণয়নের দাবি রেখেছেন।

সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যেমন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা-শিক্ষার্থী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশন, গণপ্রহিত গ্রেডের চাকরিজীবী সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতি, সুপ্রিম কোর্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ও প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদসহ মোট ৩৫টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

পোস্টটি শেয়ার করুন