সোমবার, ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৯শে মাঘ, ১৪৩২

শেষ দিনে ধুমধাম করে পর্দা নামছে ঢাকায় বাণিজ্যমেলা

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ৩০তম আসরের শেষ দিন আজ বিপুল উপচে পড়া দর্শক আর কেনাকাটার ধুমের মধ্যে চলে যাচ্ছে। পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাসব্যাপী এই বাণিজ্য মেলা শেষ হবে। অনুষ্ঠানটি শুরু হবে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ও প্যাভিলিয়নের সেরা অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের পুরস্কার বিতরণ দিয়ে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি), মেলার শেষ দিনটি যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরো প্রাঙ্গণে। সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ঢল দেখা গেছে। জুমার নামাজের পর বিকেলের দিকে মানুষের ভিড় আরও বেড়েছে। অনেক দোকানদার ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে। শেষ দিনের বিশেষ মূল্যছাড়ের কারণে কেনাকাটার ধুম দেখা গেছে এবং বিক্রেতাদের মুখেও হাসি ফুটে উঠেছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশ স্কয়ার ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্যাভিলিয়নে শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী ও তরুণদের উপস্থিতি ছিল মেলামেলার অন্যতম আকর্ষণ। এতে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কার্যক্রম ও রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরতে নির্মিত ‘এক্সপোর্ট এনক্লেভ’ ছিল এই মেলার অন্যতম ভিন্ন মাত্রার সংযোজন।

অনুরূপভাবে, এবারের মেলায় ১১টি বিদেশি দেশসহ মোট ৩২৪টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন অংশ নিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের জন্য পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিনামূল্যে প্রবেশের সুবর্ণ সুযোগ ছিল। তবে, যানজটের কারণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। ঢাকা বাইপাস সড়কের কাঞ্চন সেতুর পূর্ব পাশে টোলপ্লাজা এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে আটকে থাকেন দর্শনার্থীরা। অপরদিকে, নির্মাণাধীন সড়কের ধুলাবালি ও বালির কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। তবে, শহর থেকে সরাসরি আসা দর্শনার্থীরা তুলনামূলকভাবে যানজটমুক্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যে মেলায় পৌঁছে যান।

কেনাকাটার জন্য পণ্য বহনের ঝামেলা এড়াতে অনেক ক্রেতা পণ্য দেখে অর্ডার দিয়ে নিজেদের এলাকায় ডেলিভারির ব্যবস্থা করেছেন। এর পাশাপাশি, ফ্রি হোম ডেলিভারির সুবিধাও ছিল এই মেলায় ক্রেতাদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ।

প্রবেশের জন্য ম্যানুয়াল টিকিটের জটিলতা কাটিয়ে এবারের মেলায় ই-টিকেটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সহজ ও দ্রুত প্রবেশ সম্ভব হয়েছে। গেট এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় বা ধাক্কাধাক্কির অবস্থা লক্ষ্য করা যায়নি।

মেলা সাজানো হয়েছে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের গৃহস্থালি সামগ্রী, প্রসাধনী, ইলেকট্রনিক্স, ফার্নিচার, জুয়েলারি, পাটজাত পণ্য, লেদার ও স্পোর্টস গুডসসহ নানা ধরনের পণ্য দিয়ে। কিছু দোকানে দাম বেশি থাকলেও প্রচুর ছাড়ে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

শিশুদের জন্য স্থাপিত দুটি শিশু পার্কেও দিনভর ভিড় দেখা গেছে। নিরাপত্তার জন্য র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিসিটিভি নজরদারি ছিল কঠোর।

আকাশ মাহমুদ, নাদিয়া ফার্নিচারের বিক্রয় প্রতিনিধি, জানান, দর্শনার্থীরা সরাসরি কিনছেন ও অগ্রিম অর্ডার দিয়ে ফ্রি হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তার মতে, এই বছর মেলার ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নত।

ঢাকার রায়েরবাগ থেকে আসা ব্যবসায়ী আবু সাইদ বলেন, পঞ্চমবারের মতো মেলায় এসেছি। এবার পরিবেশ খুব সুন্দর। ইলেকট্রনিক পণ্য সবাই ফ্রি হোম ডেলিভারিতে কিনেছেন।

মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের হেড অব অপারেশন, আমিনুল ইসলাম হৃদয় জানান, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি দর্শনার্থী টিকিট কেটেছেন। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার কারণে এবারের মেলা পুরোপুরি সফল।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, শীত উপেক্ষা করেও দর্শনার্থীদের আগ্রহ ছিল শুরু থেকেই। শেষের দিনগুলোতে মেলা বেশ জমে উঠেছিল। এই আয়োজন এবার বাণিজ্যিক সফলতা লাভ করেছে।

সর্বশেষ দিন, জনসমাগম আর অফারগুলোর উত্তাপের মধ্যে ঢাকায় এই বাণিজ্যমেলা যেন হয়ে উঠেছে এক প্রাণবন্ত কেনাকাটার উৎসব।

পোস্টটি শেয়ার করুন