শুক্রবার গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনী পরিচালিত ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ২৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই এক দিনে মৃত্যু হার গত বছরের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ। গাজা সিটির বিভিন্ন আবাসিক ভবন ও দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে শরণার্থী শিবির লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে খান ইউনিসের শিবিরে হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক পরিবারের সাত সদস্যসহ অনেকের প্রাণ গেছে। শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সেলমিয়া জানিয়েছেন, গাজার পুলিশ স্টেশনে চালানো হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে নারী পুলিশ কর্মকর্তা ও বন্দিরাও রয়েছেন। হামাস পরিচালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদেরও নিহতের কথা জানায়।
এই বিপজ্জনক রক্তপাত ঘটল যখন রোববার থেকে মিশর সীমান্তের রাফাহ ক্রসিং কিছুটা খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর এই সীমান্তের খোলার সিদ্ধান্ত এল জীবনরক্ষাকারী পদক্ষেপ হিসেবে, বিশেষ করে আহত ও অসুস্থ ফিলিস্তিনিদের জন্য। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে শনিবারের এই হামলা শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে। নাসের ও শিফা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে বেশ কিছু শিশু ও বৃদ্ধ উপস্থিত। হামাস এই ভয়াবহ আক্রমণকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের চরম উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত এ হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এই হামলার জন্য যুক্তি দিয়ে দাবি করেছে, এটি পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া। তাদের ভাষায়, একদিন আগে রাফাহ সীমান্তে অবস্থিত একটি সুড়ঙ্গ থেকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা বের হওয়ার চেষ্টা করলেIsraeli বাহিনী বাধা দেয়, এবং শনিবারের হামলা তারই ধারাবাহিকতা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর থেকে এই পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ৫০৯ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত খোলার দিন থেকে এই ধরনের সংঘর্ষ গাজার নিরাপত্তা ও পুনরুদ্ধার নিয়ে রাজনৈতিক জটিলতা আরও গাঢ় করে তুলেছে।





