বিশ্ব হিজাব দিবসের উপলক্ষে সারা দেশের মতোই ঢাকায়ও প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি হিজাব র্যালি। এটি ‘প্রটেস্ট অ্যাগেইনস্ট হিজাবোফোবিয়া-ঢাকা ইউনিভার্সিটি’ নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ভিসি চত্বর থেকে র্যালির সূচনা হয়। পরে র্যালিটি টিএসসি, রাসেল টাওয়ার, এবং অবশেষে রাজু ভাস্কর্যে এসে সমাপ্ত হয়। এর পর সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিশকাতুল জান্নাত বলেন, হিজাব পরিধানের কারণে বাংলাদেশের নারীরা নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হন। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে সম্মান করার জন্য এই দিবসটির গুরুত্ব অনেক বেশি। হিজাব দিবস পালনের মাধ্যমে মুসলিম নারীদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা এবং বৈশ্বিকভাবে হিজাবের পক্ষে সংহতি ও বোঝাপড়া বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়।
তাঁর মতে, বিগত চার বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ কিছু ইভেন্টের আয়োজন করলেও, সার্বিকভাবে এটি বাংলাদেশে এখনও খুব জনপ্রিয়তা পায়নি।
র্যালিটির এক গুরুত্বপূর্ণ আয়োজক স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দিন খালেদ জানান, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অনেক নারী হিজাব ও নিকাব পরিধানের কারণে অপমান-অপদস্তির শিকার হয়েছেন। শুধু হিজাব-নিকাব নয়, দাঁড়ি-টুপি পরা পুরুষরাও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। পশ্চিমা দৃষ্টিতে এগুলো কোথাও কোথাও জঙ্গিবাদের চিহ্ন হিসেবে দেখানো হয়। এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার জন্য আমাদের সচেতন হয়েছি এবং এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
সংক্ষেপে, এই র্যালি ও দিবসের আয়োজন বাংলাদেশে হিজাব সংক্রান্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে, যা সচেতনতা ও সমঝোতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।





