চলতি বছরে গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে বিশ্ববাজারে ৪৪১ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার
ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রপ্তানি হয়েছিল ৪৪৩ কোটি ৬০ লাখ
২০ হাজার ডলারের পণ্য। এ হিসেবে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের
জানুয়ারি মাসে অর্থমূল্য বিবেচনায় পণ্য রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। সোমবার
(২ ফেব্রুয়ারি) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদন ও বিজ্ঞপ্তি থেকে
এসব তথ্য জানা গেছে।
ইপিবি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রপ্তানি কার্যক্রমে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক
প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। এ মাসে রপ্তানি
হয়েছে ৪৪১ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩৯৬ কোটি ৮২ লাখ
৮০ হাজার ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর ফলে মাসভিত্তিকভাবে রপ্তানি ১১
দশমিক ২২ শতাংশ হারে দুই অংকের অর্জন করেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়কালে মোট রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৪১
কোটি ৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, আগের অর্থবছরের একই ছিল ২ হাজার ৮৯৬ কোটি ৯৫ লাখ
২০ হাজার ডলার। এ হ্রাস বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির প্রভাবকে প্রতিফলিত করে।
তৈরি পোশাক খাত তার শক্তিশালী ও প্রভাবশালী অবস্থান বজায় রেখেছে উল্লেখ করে
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পণ্যটির রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ২৯৮ কোটি ২ লাখ মার্কিন
ডলারের। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এটি
বৈশ্বিক বাজারে টেকসই চাহিদা এবং খাতটির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিফলন।
ইপিবি জানিয়েছে, তৈরি পোশাক খাত বাদে শীর্ষ ছয়টি রপ্তানি খাত—চামড়া ও চামড়াজাত
পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, লাইট
ইঞ্জিনিয়ারিং এবং হিমায়িত মাছ। এসব পণ্যের পারফরম্যান্স মিশ্র ছিল জানিয়ে ইপিবি
বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক, কিছু ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা
গেছে। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম
টেক্সটাইল, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য—এই খাতগুলো
বছরওয়ারি ও মাসওয়ারি উভয় ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে প্রধান রপ্তানি
গন্তব্যগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের শীর্ষ রফতানি বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে
রেখেছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারে। এই সময়ে
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, বছর ভিত্তিতে
৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং মাস ভিত্তিতে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপীয়
ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যেও রপ্তানিতে ইতিবাচক ঘুরে
দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে।
জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে
তাদের অবস্থান বজায় রেখেছে উল্লেখ করে ইপিবি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এ দুই দেশে
রফতানি হয়েছে যথাক্রমে ২৮৫ কোটি ২২ লাখ ও ২৭৭ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলারের। যা
প্রধান বৈশ্বিক বাজারগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ককে পুনরায়
নিশ্চিত করে।





